রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ বা বীর্যে রক্ত?’ পুরুষদের এই মারাত্মক ক্যানসারের লক্ষণগুলো কি অবহেলা করছেন?

পুরুষদের শরীরে যে ক্যানসারগুলি সবচেয়ে বেশি থাবা বসায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রোস্টেট ক্যানসার। পুরুষদের শরীরে বীর্যবাহী তরল তৈরি করে আখরোট আকৃতির ছোট গ্রন্থি ‘প্রোস্টেট’। এই গ্রন্থিতে অস্বাভাবিক কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলেই এই মারাত্মক রোগ বাসা বাঁধে। চিকিৎসকদের মতে, ৪৫ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ সাধারণত প্রকাশ পায় না, যার ফলে রোগীরা অনেকেই বুঝতে পারেন না যে ক্যানসার ইতিমধ্যেই লিম্ফ নোড বা হাড়ের মতো অংশে ছড়িয়ে পড়ছে।

যে লক্ষণগুলি দেখলে সাবধান হওয়া জরুরি:

  • প্রস্রাবের সমস্যা: প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা দেওয়া (প্রস্রাবের রং গোলাপি, লাল বা কোলার মতো হওয়া), ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ এবং প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট হওয়া।

  • রাতের ঘুম ব্যাঘাত: রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া।

  • বীর্যে রক্ত ও শারীরিক জটিলতা: বীর্যের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া এবং লিঙ্গোত্থানে সমস্যা বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।

  • তীব্র শারীরিক ব্যথা: পিঠে ও হাড়ের জোরালো ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া এবং হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া।

প্রতিরোধ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব: বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পুরুষরা অনেক সময় ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা বা বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এগুলি এড়িয়ে যান। কিন্তু এই অবহেলাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা সাধারণত প্রোস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন বা পিএসএ (PSA) রক্ত পরীক্ষা এবং ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ শনাক্ত করার পরামর্শ দেন। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে রোগ গুরুতর হওয়ার আগেই তা ধরা পড়ে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। সুস্থ থাকতে লক্ষণগুলির বিষয়ে এখনই সতর্ক হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *