৫৬ বছরের খরা কাটিয়ে এশিয়ান গেমসে রূপোলি ইতিহাস! পেঁয়াজ চাষির ছেলে আজ দেশের গর্ব!

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে রবিবার এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ভারত। ২০২৬ এশিয়ান গেমসের পুরুষদের হাই জাম্প ইভেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে রৌপ্য পদক জয় করলেন ভারতের সর্বেশ কুশারে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের হাত ধরে এশিয়ান গেমসের পুরুষদের হাই জাম্পে ভারতের দীর্ঘ ৫৬ বছরের পদক খরা অবশেষে ঘুচল। এর আগে ১৯৭০ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে ভীম সিং দেশের হয়ে শেষবার ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক পর ফের সেই ইভেন্টে পোডিয়ামে নামল ভারত।

ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রথম স্থানের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। সর্বেশ একে একে ২.১০ মিটার, ২.১৪ মিটার, ২.১৮ মিটার, ২.২২ মিটার এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ২.২৫ মিটার উচ্চতা সফলভাবে পার করেন। তবে ২.২৮ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করতে গিয়ে তিনবারের চেষ্টায় সামান্য ব্যর্থ হন তিনি। অন্যদিকে, চাইনিজ তাইপের চাও-হুয়ান ফু-ও ২.২৫ মিটার লাফ দিলেও কাউন্টব্যাক নিয়মের ভিত্তিতে তাঁকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয় এবং সর্বেশকে রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সাংহিয়ক উ ২.২২ মিটার লাফ দিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।

এই পদক জয়ের আনন্দ সর্বেশের কাছে দ্বিগুণ অর্থবহ, কারণ ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। সেদিন ২.২৬ মিটার লাফিয়েও একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে চতুর্থ স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের নাগোয়া এশিয়ান গেমসে রৌপ্য পদক জিতে নিজের জেদ ও ধারাবাহিকতা প্রমাণ করলেন তিনি।

১৯৯৫ সালের ১৭ জুন মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার দেবরগাঁও গ্রামের এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম সর্বেশের। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সাধারণ পেঁয়াজ চাষি। শৈশবে আধুনিক প্রশিক্ষণ কিংবা উন্নত ল্যান্ডিং ম্যাট—কোনোটিই হাতের কাছে ছিল না। ছেলের অনুশীলনে যাতে কোনো আঘাত না লাগে, সেকথা ভেবে খামারের বর্জ্য, ভুট্টার খোসা এবং তুলা দিয়ে নিজেই ল্যান্ডিং পিট বানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। বাবার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল অ্যাথলেটিক্সে তাঁর হাতেখড়ি। পরিবারের সেই কঠোর সংগ্রাম ও বাবার আদর্শকে পুঁজি করেই পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন সর্বেশ। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১০১তম ফিল্ড রেজিমেন্টে নায়েব সুবেদার পদে থেকে দেশের সেবা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেরঙ্গা পতাকার সম্মান উজ্জ্বল করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *