‘স্যার, মরে যাচ্ছি, আমায় ছেড়ে দিন!’ পুলিশের লাঠির চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়া যুবকের আকুতির ভিডিও ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

আইনি প্রক্রিয়া চলার মাঝেই থানায় তুলে নিয়ে এক যুবককে নির্মমভাবে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। মদ্যপানের অভিযোগে ধৃত এক যুবককে মাটিতে বসিয়ে লাঠি দিয়ে পেপানোর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলা প্রশাসন। মোতিহারির পুলিশ সুপার স্বরণ প্রভাত স্বয়ং পুরো বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে কড়া জবাব তলব করেছেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি পূর্ব চম্পারণের চিরাইয়া থানার অন্তর্গত বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিওটিতে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা ওই যুবকের নাম টুনটুন সাহ, যিনি চিরাইয়ার রামপুর দক্ষিণ পঞ্চায়েতের বেলহি গ্রামের বাসিন্দা বিনোদ সাহের ছেলে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মদ্যপানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল।

ভাইরাল ভিডিওতে ঠিক কী দেখা গেছে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মাটিতে বসে থাকা ওই যুবক যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এবং পুলিশকে বারবার হাত জোড় করে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “হায় ঈশ্বর… দয়া করে আমাকে এখন ছেড়ে দিন… আমি মরে গেছি।” ঠিক সেই মুহূর্তে পটভূমিতে অন্য একজনের কণ্ঠস্বরের পাশাপাশি সাধারণ পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে হাতে লাঠি নিয়ে ওই যুবককে বেধড়ক পেটাতে দেখা যায়।

ভিডিওতে লাঠিধারী ওই ব্যক্তিটি চিরাইয়া থানার অতিরিক্ত স্টেশন হাউস অফিসার (ASI) মধুকার কুমার বলে জোরালো দাবি উঠেছে। যদিও প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্ত সম্পূর্ণ হলেই ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির আসল পরিচয় ও ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারের পর ধৃত টুনটুন শাহকে শিকারগঞ্জ মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে জরিমানা দেওয়ার পর তিনি জামিনে মুক্তিও পান। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে, যেখানে আইনিভাবে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তার আগে থানা চত্বরের ভেতরে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন অমানবিক নির্যাতন চালাতে পারেন? আইনরক্ষকদের এমন ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পর মোতিহারির পুলিশ সুপার স্বরণ প্রভাত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। অভিযুক্ত অতিরিক্ত এসএইচও মধুকার কুমারের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *