সার্জিকাল স্ট্রাইক থেকে সোমনাথ মন্দির ধ্বংসের ইতিহাস! ‘মন কি বাত’-এ হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর, ১০টি বড় পয়েন্ট

নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান আরও একবার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে উঠে এল দেশের সুরক্ষা, বীরত্ব এবং ঐতিহ্যের একাধিক প্রসঙ্গ। সার্জিকাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তি থেকে শুরু করে অতীতের বিভিন্ন জঙ্গি হামলা এবং দেশের বর্তমান প্রতিরক্ষা নীতির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি।

এ দিনের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কোন কোন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করলেন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক তার প্রধান ১০টি দিক:

সার্জিকাল স্ট্রাইকের ১০ বছর: ২০১৬ সালের ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা পাকিস্তানে জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিতে যে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল, তার সাফল্যের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় সেনার সেই সাহসিকতা দেখে অবাক হয়েছিল গোটা বিশ্ব।

সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স: অতীতে ভারতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ এবং ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার স্মৃতি উস্কে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলে। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযান প্রমাণ করেছে যে জঙ্গিরা চোখ রাঙালে ভারত ঘরে ঢুকে জবাব দিতে পিছপা হয় না।

আমেরিকার ৯/১১ ও ভারতীয় প্রাণহানি: ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ হামলায় মার্কিন নাগরিকদের পরেই সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের প্রাণহানি হয়েছিল বলে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালে আমেরিকা সফরে গিয়ে তিনি এই নির্দোষ মানুষদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিলেন বলে জানান।

চলতি জনগণনা প্রক্রিয়া: দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই জনগণনার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে এবং ৩২ কোটি মানুষের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এই কাজে সাধারণ মানুষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ও অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে তথ্য আপলোড করার আহ্বান জানান তিনি।

অশোক সিংঘলজির জন্মবার্ষিকী: ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অশোক সিংঘলজির জন্মবার্ষিকীতে রাম জন্মভূমি আন্দোলনে তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দেখানো দিশার ফলেই আজ অযোধ্যা রাম মন্দির মূর্ত হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস: আজ থেকে এক হাজার বছর আগে, ১০২৬ সালে মহম্মদ গজনির সোমনাথ মন্দির আক্রমণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, যারা একদিন মন্দির ধ্বংস করতে চেয়েছিল, ইতিহাসের পাতা থেকে আজ তাদের অস্তিত্বই মুছে গেছে। বর্তমানে চলছে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’।

স্বচ্ছতা ও গান্ধীজির আদর্শ: আগামী ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে স্বচ্ছতা অভিযানের গুরুত্ব বোঝান মোদী। মধ্যপ্রদেশ, মুম্বই এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ যেভাবে নদী, সমুদ্র সৈকত ও পিকনিক স্পট পরিষ্কারের কাজে নেমেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গের টানে অসমের সোনাই রুপাই অভয়ারণ্যে হাতির পালের ফিরে আসার কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রকৃতিকে রক্ষা করার অর্থ যে পুরো ইকোসিস্টেমকে বাঁচানো, সে কথাও স্পষ্ট করে দেন।

সুন্দরবনের বাঘ-বিধবাদের লড়াই: পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ঝড়খালির মহিলাদের কাজের বিশেষ প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। যে সমস্ত মহিলাদের স্বামীরা বাঘের শিকারে পরিণত হয়েছেন, সেই ‘বাঘ-বিধবা’ নারীরা কীভাবে নিজের হাতে ম্যানগ্রোভ অরণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করে নজির সৃষ্টি করেছেন, তা সকলের জানা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নেশামুক্তি ও ক্রীড়াজগত: দেশজুড়ে চলা নেশামুক্তি অভিযানে হাজার হাজার পড়ুয়া ও যুবসমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে ভারতের একের পর এক নতুন সাফল্যের কথাও এ দিনের অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *