পদ্মফুলের ঝড়ে উড়ে গেল হাত শিবির! জয়পুর থেকে যোধপুর— সবকটি পৌরনিগমে ঐতিহাসিক জয় গেরুয়া শিবিরের!

রাজস্থানের পৌরসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও পোক্ত করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। কিছুদিন আগেই রাজ্যের প্রথম ১০টি পৌরনিগমের অধিকাংশে ঐতিহাসিক জয়লাভ করে মেয়র পদ দখল করেছিল গেরুয়া শিবির। আর শনিবার সেই ধারা বজায় রেখেই জয়পুর, যোধপুর ও কোটা পৌরসভায় উপ-মেয়র পদেও বিরাট জয় ছিনিয়ে নিল বিজেপি। এর ফলে রাজ্যের এই প্রধান তিন গুরুত্বপূর্ণ শহরে মেয়র ও উপ-মেয়র— উভয় পদেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল শাসক দল।

কোথায় কে জয়ী হলেন? বিস্তারিত ফলাফল:

  • জয়পুর: রাজধানী জয়পুর পৌরসভার উপ-মেয়র নির্বাচনে বিজেপির সরোজ কানওয়ার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী সালমান মনসুরিকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন।

  • যোধপুর: যোধপুর পৌরসভায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল করিমকে চার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন বিজেপির বিজয় সিং পানওয়ার। ভোট গণনায় বিজয় সিং ৫২টি ভোট পান, যেখানে কংগ্রেস প্রার্থী পান ৪৮টি ভোট। জয়ের পরেই উল্লাসে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা।

  • কোটা: কোটা পৌরসভায় উপ-মেয়র নির্বাচনে কংগ্রেস কোনো প্রার্থী দিতে না পারায় বিজেপির বিবেক রাজবংশী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি, কোটা জেলার সুকেত পৌরসভায় বিজেপির বিকাশ চৌহান সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

খাটুশ্যামজিতে অবশ্য স্বস্তিতে কংগ্রেস: একদিকে যখন জয়পুর, যোধপুর ও কোটায় গেরুয়া ঝড় বইছে, তখন সিকার জেলার খাটুশ্যামজি পৌরসভায় কংগ্রেস প্রার্থী বিনীতা এক ভোটের ব্যবধানে বিজেপির প্রেম দেবীকে পরাজিত করে সভাপতি পদ দখল করেছেন। এছাড়া অন্যান্য কিছু অঞ্চলেও স্থানীয় স্তরে মিশ্র ফলাফল দেখা গিয়েছে।

মেয়রদের হাত ধরে উন্নয়নের অঙ্গীকার: ইতিমধ্যেই এই তিন শহরে নতুন মেয়ররা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জয়পুরে সুনীল কোঠারি, যোধপুরে প্রসন্নচন্দ মেহতা এবং কোটায় অনুসূয়া গোস্বামী মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর যোধপুরের মেয়র প্রসন্নচন্দ মেহতা ৫৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়ে শহরবাসীর উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে, কোটার মেয়র অনুসূয়া গোস্বামী দায়িত্ব গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্থানের এই স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির এই ধারাবাহিক সাফল্য আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে। ‘ট্রিপল-ইঞ্জিন সরকারের’ সহায়তায় শহরগুলির উন্নয়ন এবার আরও গতি পাবে বলেই আশাবাদী জয়ী প্রার্থীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *