বিজেপির প্রার্থী হতে চাপ দিয়েছিলেন বর্তমান সিইসি? কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিবের দাবিতে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক শনিবার এক চরম মাত্রা নিল। কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিব জিজি থমসনের একটি বিস্ফোরক দাবিকে সামনে রেখে সরাসরি শাসক দল ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও লজ্জাজনক’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

কী দাবি করেছেন কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিব? পুরো বিতর্কের সূত্রপাত জিজি থমসনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিব তথা তৎকালীন আইএএস কর্মকর্তা জিজি থমসন দাবি করেছেন যে, ২০১৬ সালে চাকুরিজীবী থাকা অবস্থাতেই জ্ঞানেশ কুমার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাঁকে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে জয়ী হলে মন্ত্রিত্বের লোভ দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন থমসন। এই প্রসঙ্গ টেনে এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে সোচ্চার হন রাহুল গান্ধী।

রাহুল গান্ধীর মারাত্মক অভিযোগ: সামাজিক মাধ্যমে নিজের পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমার— যিনি তখন একজন আইএএস অফিসার ছিলেন— তাঁকে বিজেপির জন্য লোক বা প্রার্থী সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হতো। আর আজ সেই ব্যক্তিকেই মোদী ও শাহ আম্পায়ার বানিয়ে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থায় ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।”

পাশাপাশি, কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিবের সেই ভিডিও বার্তাটি ইনস্টাগ্রামেও শেয়ার করেন রাহুল। একই সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা দাবি তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহিতার হাত থেকে বাঁচাতে বিজেপি সরকার যে আইনি সুরক্ষা দিয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে তিনি জানান, ‘ইন্ডিয়া’ জোট এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ।

পালটা মুখ খুলল বিজেপি: কংগ্রেসের এই ধারাবাহিক আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “একটি সংবাদপত্রের খণ্ডিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস দল নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন ও অবমাননাকর অভিযোগ তুলছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস যখন হিমাচল প্রদেশ বা তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যে নির্বাচনে জেতে, তখন কি ইভিএম বা নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ঠিক থাকে? পরাজয় নিশ্চিত দেখেই কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলি এখন ভিত্তিহীন অজুহাত খুঁজছে বলে দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। সাংবিধানিক সংস্থাকে বিতর্কিত করার এই প্রবণতা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলেই মন্তব্য করেছেন রবি শঙ্কর প্রসাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *