গণপতি বিসর্জনের পর জুহু সৈকতে হাজির অজয় দেবগন! রাতারাতি এ কী কাণ্ড ঘটালেন ‘সিঙ্ঘম’?

গণপতি বিসর্জনের পরপরই বদলে যায় মুম্বইয়ের বিখ্যাত জুহু সৈকতের চেনা ছবি। উৎসবের শেষে সমুদ্রের বালিয়াড়িতে জমে ওঠে আবর্জনার পাহাড়। তবে এবার সেই দূষিত পরিস্থিতি বদলে দিতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সরাসরি ময়দানে নামলেন বলিউড সুপারস্টার অজয় দেবগন এবং সমাজকর্মী অমৃতা ফড়নবিশ।

শনিবার গণেশ বিসর্জনের ঠিক পরদিন সকালে জুহু সৈকতে আয়োজিত ‘সি শোর শাইন ২০২৬’ নামে এক মেগা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন তাঁরা। দিব্যজ ফাউন্ডেশন, মুম্বই পুরসভা (BMC) এবং মুম্বই পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ সাফাই অভিযানের আয়োজন করা হয়।

সৈকতে তারকা ও আমজনতার মেলবন্ধন: জুহু সৈকতের ‘এ’ গেটে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শুধু তারকারাই নন, বিএমসির উচ্চপদস্থ আধিকারিক, স্কুল-কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, বিভিন্ন এনজিও, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে হাত লাগান। উৎসবের পর সমুদ্র দূষণ রোধ করা এবং নাগরিকদের পরিবেশ সচেতন করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

‘এটা কেবল সরকারি সংস্থার কাজ নয়’: অজয় দেবগন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমে অভিনেতা অজয় দেবগন বলেন, “আমাদের চারপাশ ও সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার রাখা শুধু কোন নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পুরসভার দায়িত্ব হতে পারে না। এটি নাগরিকদের যৌথ শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের পরিচয়। দিব্যজ ফাউন্ডেশনের এই সামাজিক উদ্যোগের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। বৃহৎ স্বার্থে সাধারণ মানুষ যখন একজোট হয়, তখনই সমাজ পরিবর্তনের আসল সূচনা ঘটে।”

‘সমুদ্রই মুম্বইয়ের প্রাণশক্তি’: অমৃতা ফড়নবিশ দিব্যজ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার অমৃতা ফড়নবিশ বলেন, “মুম্বই শহরের আসল পরিচয় ও প্রাণশক্তি লুকিয়ে রয়েছে তার সমুদ্র সৈকতে। উপকূলভাগ পরিষ্কার রাখা কেবল নাগরিক দায়িত্ব নয়, এটি শহরের প্রতি একটি আবেগঘন প্রতিশ্রুতি।” তিনি আরও জানান, এই ধরণের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি কীভাবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎসব উদ্‌যাপন করতে হয়, তা শেখায়।

পুরসভার অভিনব পদক্ষেপ: অভিযানে উপস্থিত বিএমসি কমিশনার অশ্বিনী ভিড়ে জানান, তরুণ সমাজের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলাশয় রক্ষার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই প্রতীকী প্রচেষ্টার আয়োজন।

অন্যদিকে, মুম্বই বিজেপির সভাপতি অমিত সাতম জানান, সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় বিএমসির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, “চলতি বছর বিএমসির ব্যাপক প্রচার ও ব্যবস্থার ফলে মুম্বইয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রতিমা কৃত্রিম জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। কেবল হাতে গোনা কয়েকটি বিশাল আকারের প্রতিমা সমুদ্রে বিসর্জন হয়েছে, যা সমুদ্র দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে।”

এই মেগা ক্লিন-আপ ড্রাইভে ঘাটকোপারের বিধায়ক রাম কদম, মেঘাশ্রেয়-র প্রতিষ্ঠাতা সীমা সিং এবং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কন্যা দিভিজা ফড়নবিশ সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। উৎসবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে দায়িত্বশীল জীবনযাপন করা যায়, তারই বার্তা উঠে এলো এই মহতী উদ্যোগ থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *