টাকার লোভে আদালতের সিল করা নথিও বিক্রি! কড়া অ্যাকশনে গভীর রাতে গ্রেফতার সিভিক ভলান্টিয়ার!

বিচারব্যবস্থার চরম গোপনীয়তা রক্ষা নিয়েই উঠে গেল বড়সড় প্রশ্ন। টাকার লোভে বিচারালয়ের গালা দিয়ে সিল করা গোপন ফাইল ও তদন্ত রিপোর্ট বাইরে পাচার করার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জাজেস কোর্টে।
ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম সেলিম রাব্বানি। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে বিচারালয়ের ভেতরে থাকা গোপন সব তথ্য বাইরে পাচার করে মোটা টাকার বিনিময়ে মামলার মোড় ঘুড়িয়ে দেওয়ার কারবারে যুক্ত ছিলেন তিনি।
যেভাবে চলত সংবেদনশীল তথ্য পাচার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের বিচারক, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ছাড়া চার্জশিট বা তদন্তের কোনো সংবেদনশীল ফাইল কারও দেখার নিয়ম থাকে না। চূড়ান্ত গোপনীয়তার স্বার্থে সমস্ত নথি একটি বিশেষ প্যাকেটে ভরে গালা দিয়ে সিল করে রাখা হতো।
কিন্তু সেলিম রাব্বানি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই সিল করা খাম থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য গোপনে ছবি তুলে বা বের করে মোটা টাকার বিনিময়ে বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এর ফলে আদালতে চলা একাধিক মামলার জলঘোলা হচ্ছিল এবং বিচারে সরাসরি ব্যাঘাত ঘটছিল।
গভীর রাতে পুলিশ সুপারের ম্যারাথন জেরা, ধৃত সিভিক
বেশ কিছু দিন ধরে আদালতের ভেতরের নথি বাইরে ফাঁস হওয়া নিয়ে সন্দেহ বাড়ছিল পুলিশ প্রশাসনের। অনুসন্ধানের পর সেলিমের দিকেই আঙুল ওঠে। বুধবার বিকেলে কোতোয়ালি থানায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মণীশ জোশি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিকি আগরওয়ালা। টানা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে ভেঙে পড়েন সেলিম। বয়ানে একের পর এক অসঙ্গতি মেলায় বুধবার গভীর রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে কোচবিহার জেলা আদালতে পেশ করা হয়।
বড় চক্রের সন্ধান চালানো হচ্ছে
কোচবিহার জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং حساس। পুলিশ ইতিমধ্যেই নিজস্ব উদ্যোগে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Moto) মামলা রুজু করেছে।
এত দিন ধরে আদালতের ভেতরের স্পর্শকাতর তথ্য কাদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছিল এবং এই বেআইনি কারবারে আর কে কে জড়িত রয়েছে, তা জানতে সেলিমকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী বা আদালতের কর্মী যুক্ত আছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।