রাজ্যে অপরাধ রুখতে মাদকমুক্তির ‘টপ প্রাইওরিটি’, বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে সঙ্গে নিয়ে রণকৌশল নবান্নের

যুবসমাজকে নেশার মারাত্মক থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে রাজ্যজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলকাতায় আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকেও পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ তাঁর সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে বারুইপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হিংসাত্মক ঘটনা ও মহিলাদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, এসব অপরাধের নেপথ্যে প্রায়শই নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলছে। অবৈধ মাদকের প্রভাবেই সমাজ ও পরিবারের শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। তাই প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই গত পাঁচ মাস ধরে মাদক চোরাচালান রোধকে সরকারের ‘টপ প্রাইওরিটি’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিশাল অভিযান সফল করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সিগুলির মধ্যে অভূতপূর্ব সমন্বয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ, এসটিএফ (STF), নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) এবং কলকাতা পুলিশ যৌথভাবে সীমান্ত ও শহরজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন এবং জেলার পুলিশ প্রধানদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

অভিযানের সাম্প্রতিক সাফল্য হিসেবে বালুরঘাটে প্রথম দফায় দুই লক্ষ এবং পরবর্তী সময়ে আরও তিন লক্ষ ১০ হাজার অবৈধ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ মিডিয়ার উপস্থিতিতে ধ্বংস করার খবর জানান তিনি। এ ছাড়া অসম থেকে এক মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারসহ প্রচুর পরিমাণ অবৈধ ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে এসটিএফ-এর বিশেষ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র সুপ্রিম কোর্ট থেকে মিলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত বা প্রতিবেশী রাজ্য থেকে মাদক ঢোকার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি বিতর্কিত ওষুধ সরবরাহকারী সংস্থা রাজ্যে নিষিদ্ধ সামগ্রী না পাঠানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নজরদারি একবিন্দু শিথিল করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বর্ষণস্নাত দিনে যুবসমাজকে রক্ষা করে একটি সুস্থ ও নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *