রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি আসল দুর্নীতি? ১৫ লক্ষ টাকার এক্সটরশন মামলায় সিআইডির মুখোমুখি কীর্তি

১৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সিআইডির মুখোমুখি হলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ। আদালতের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার ভবানীভবনে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার দফতরে হাজির হন তিনি। আদালতের কড়া নির্দেশ এবং অন্তর্বর্তী সুরক্ষার জেরে এই জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা এই রাজনৈতিক মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মামলার সূত্রপাত গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসের একটি ঘটনার জেরে। এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, দুর্গাপুরে কীর্তি আজাদের নিজস্ব বাংলোয় তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে সাংসদেরই এক সহযোগী তাঁর কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এই ঘটনার সমর্থনে একটি অডিও রেকর্ডিংও তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছন কীর্তি আজাদ। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ঘটনার দিন তিনি দুর্গাপুরেই ছিলেন না। প্রায় ১৫ মাস পর এই অভিযোগ তোলার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীর।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো কঠোর পদক্ষেপ করা না গেলেও, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্ত রয়েছে। এদিনের জিজ্ঞাসাবাদে দুর্গাপুরের সেই বাংলোয় ওই ব্যবসায়ীকে কেন ডাকা হয়েছিল, নেপথ্যে কোন যোগসূত্র ছিল এবং সাংসদের নাম বা উপস্থিতি সেখানে কতটা কার্যকর ছিল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। সিআইডির এই ম্যারাথন জেরা থেকে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *