তারকা হোন বা সাধারণ গৃহবধূ—সন্তান প্রসবের পর শরীরের এই বদল নিয়ে কটাক্ষ কেন বন্ধ হওয়া জরুরি?

সম্প্রতি মা হওয়ার পর বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের শারীরিক গঠন বা লুক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র কাটাছেঁড়া ও সমালোচনা। তারকাদের এই পরিস্থিতি কেবল তাঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের প্রতিটি পরিবারের সাধারণ নারীরাও সন্তান প্রসবের পর দ্রুত পুরনো ও সুঠাম ফিগারে ফিরে যাওয়ার অদৃশ্য চাপের মুখে পড়েন। ওজন না কমলে কিংবা শরীরে বাড়তি মেদ জমলে চারপাশের কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হতে হয় নতুন মায়েদের। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরপরই গর্ভাবস্থা-পূর্ববর্তী শারীরিক গঠনে ফিরে যাওয়া সব মহিলার ক্ষেত্রে যেমন সম্ভব নয়, তেমনই তা জরুরিও নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার দীর্ঘ নয় মাস জুড়ে একজন নারীর শরীরে ব্যাপক হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে। রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি, জরায়ুর প্রসারণ এবং পেটের পেশি ও পেলভিক ফ্লোরের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। সন্তান প্রসবের পর শরীরকে আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, রাতের পর রাত ঘুম না হওয়া এবং নবজাতকের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার ধকল নিয়মিত জীবনযাপন বা এক্সারসাইজের রুটিন বজায় রাখতে দেয় না। এছাড়া স্তন্যদান করলেই রাতারাতি ওজন কমে যায়—এই ধারণাও পুরোপুরি সঠিক নয়, কারণ স্তন্যপায়ী মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তির প্রয়োজন হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের ভুয়া বা ফিল্টার করা ‘পারফেক্ট পোস্ট-পার্টম বডি’ দেখে সাধারণ নারীদের মনে যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ট্রেনার ও ডায়েটিশিয়ানদের যে সুবিধা থাকে, তা সাধারণ মানুষের না থাকাই স্বাভাবিক। তাই মাতৃত্বের এই সুন্দর ও পবিত্র সময়টিতে নারীদের শারীরিক রূপ নিয়ে ট্রোলিং না করে বরং পরিবার ও স্বামীর পক্ষ থেকে মানসিক সমর্থন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা সবথেকে বেশি জরুরি।