করোনার বহুমূল্য যন্ত্রপাতি গায়েব! গ্রামীণ হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দফতর

করোনা মহামারী মোকাবিলায় গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে পাঠানো হয়েছিল বহুমূল্য যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সেই সমস্ত দামী যন্ত্রপাতির বহু কিছুই আর হাসপাতালে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর থেকে শুরু করে কম্পিউটার বা ইউপিএস—এসব উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মীদের ওপর দোষ চাপিয়ে বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অনুদানে গ্রামীণ এলাকার হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার জন্য কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল যাতে গ্রামের রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে শহরে দৌড়াতে না হয়। কিন্তু রাজ্যের ৬৪টি চিহ্নিত গ্রামীণ হাসপাতাল ও ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তদন্ত চালিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের পাঠানো ভেন্টিলেটর, সিপ্যাপ/বাইপ্যাপ মেশিন, মাল্টি-প্যারা পেশেন্ট মনিটর এবং অনলাইন পরামর্শের জন্য বরাদ্দ কম্পিউটার ও ইউপিএস হয় চুরি গেছে নয়তো রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে।
এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও দুর্নীতির অভিযোগে এবার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলিকে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় এফআইআর বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত স্বাস্থ্যকর্তা, ব্লক প্রাথমিক হেলথ অফিসার বা কর্মচারীদের সরাসরি দায়িত্বে এই সমস্ত বহুমূল্য সরকারি সম্পত্তি ছিল, তাঁদের নাকের নিচ থেকে যন্ত্রপাতি উধাও হওয়ার খেসারত হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন থেকেই কাটা হবে সেই সব যন্ত্রের পুরো দাম। স্বাস্থ্য দফতরের এই কড়া নির্দেশের পর থেকেই জেলাস্তরের স্বাস্থ্যমহলে ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।