প্ল্যাটফর্মের খাবার ও জল কতটা নিরাপদ? বড়সড় অভিযানে নেমে আসল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

রেলযাত্রী এবং রেলকর্মীদের জন্য উচ্চমানের স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং গুণমানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা দিতে বিশেষ নজরদারি অভিযান চালাল পূর্ব রেলওয়ে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নিজস্ব এক্তিয়ারভুক্ত সমস্ত রেলওয়ে চত্বর, প্ল্যাটফর্ম এবং পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলিতে একযোগে এই ব্যাপক পরিদর্শনের কাজ চালানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য এবং জনস্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দিয়েই মূলত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রেন এবং স্টেশন চত্বরে সরবরাহ করা পানীয় জলের গুণমান সুনিশ্চিত করতে ব্যাপক স্তরে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পূর্ব রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ও রেলওয়ে চত্বর থেকে সংগৃহীত মোট ১৩২টি জলের নমুনার ব্যাকটেরিয়াঘটিত (ব্যাকটেরিওলোজিক্যাল) ল্যাব পরীক্ষা করা হয়। মূলত মাইক্রোবায়োলজিক্যাল দূষণ প্রতিরোধ করা এবং সরবরাহকৃত জল নির্ধারিত সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জীবাণুমুক্তকরণের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করছে কি না এবং জল সরবরাহের ব্যবস্থার সর্বত্র ক্লোরিনের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ১,৬৫৯টি রেসিডুয়াল ক্লোরিন পরীক্ষা করা হয়েছে। পানীয় জলকে ব্যাকটেরিয়া বা যেকোনো জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এই ধরনের নজরদারি অত্যন্ত কার্যকরী বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাকটেরিয়াঘটিত বা ক্লোরিন পরীক্ষার পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণের কঠোরতা বাড়াতে জলের ৫টি রাসায়নিক বিশ্লেষণও সম্পন্ন করা হয়েছে।

জলের সুরক্ষার পাশাপাশি এই সপ্তাহব্যাপী অভিযানে স্টেশন ও ক্যাটারিং কেন্দ্রগুলির খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও সমান গুরুত্ব আরোপ করা হয়। রেলওয়ে চত্বরে অবস্থিত বিভিন্ন খাদ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ও প্যান্ট্রি কার থেকে সংগৃহীত ২৯টি খাদ্যের নমুনা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের অভিযান কেবল কোনো রুটিন পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং খাদ্য প্রস্তুতি ও সংরক্ষণের সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা করাই এর মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *