গণতন্ত্রের কবর খুঁড়ছে বিজেপি! নির্বাচন কমিশনকে হাত করে বাংলায় ভয়ের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ শুভঙ্কর সরকারের

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের। সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি সরাসরি কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন যে, মহারাষ্ট্রের আদলে এবার বাংলায় গণতন্ত্রকে ধূলিসাৎ করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে। ভোট চুরির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতীক কেড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলোকে এক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
মহারাষ্ট্র মডেল এবার বাংলায়?
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর চালিত আন্দোলনকে সংবিধান রক্ষার লড়াই উল্লেখ করে শুভঙ্কর সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন আজ কেন্দ্রের শাসকদলের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বিধায়ক কেনাবেচা ও দল ভাঙানোর মাধ্যমে বিরোধী দলগুলির ওপর বুলডোজার চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি জানান, শিবসেনা বা এনসিপি-র প্রতীক যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেই একই ‘মহারাষ্ট্র মডেল’ এখন বাংলাতেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ভয়ের রাজনীতি ও বুলডোজার সংস্কৃতি
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি ‘ভ ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগান তুললেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখছে সাধারণ মানুষ। কটাক্ষ করে কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, গরিবের দোকান-বাড়ি ভেঙে দেওয়ার মতো বুলডোজার সংস্কৃতি এবং হিংসাত্মক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়ার এই প্রবণতাকে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদ্রিজাতের ‘মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।
আসন্ন উপনির্বাচন ও বিরোধী ঐক্যের ডাক
এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সমস্ত গণতান্ত্রিক ও বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একছাতার নিচে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শুভঙ্কর। আসন্ন রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে সাধারণ মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে কংগ্রেস প্রার্থীর হাত চিহ্নকে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, এই লড়াই কেবল ক্ষমতার নয়, বরং আদর্শ ও নীতি রক্ষার লড়াই।