ঘুমের ঘোরে দাঁতে দাঁত ঘষছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ!

সকালে ঘুম থেকে উঠে কি প্রায়ই চোয়ালে অসহ্য যন্ত্রণা, ঘাড়ে ব্যথা বা মাথায় তীব্র খিঁচ ধরা অনুভব করেন? কিংবা পরিবারের কেউ কি কখনো বলেছে যে আপনি রাতে ঘুমানোর সময় অস্বাভাবিক শব্দে দাঁতে দাঁত ঘষেন? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে অবহেলা না করে এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ব্রুক্সিজম’ (Bruxism)।
গবেষণা বলছে, বিশ্বে প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যায় ভোগেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ জানেনই না যে তারা অজান্তে নিজেদের কত বড় ক্ষতি করছেন।
কেন মানুষ ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রুক্সিজম মূলত স্নায়ুতন্ত্র এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি ‘জৈব-মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা’। দৈনন্দিন জীবনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হতাশা এবং অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা এর প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
-
মানসিক চাপ ও অ্যাংজাইটি: সারা দিনের জমে থাকা মানসিক চাপ ঘুমের মধ্যে শরীর থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে মস্তিষ্ক স্নায়ু ও চোয়ালের পেশিতে সসংকেত পাঠায়, যার দরুন মানুষ দাঁত শক্ত করে চেপে ধরে বা ঘষতে থাকে।
-
স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea): ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালিতে বাধা সৃষ্টি হলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চোয়াল নাড়াতে শুরু করে, যা ব্রুক্সিজমের রূপ নেয়।
যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনি আক্রান্ত
১. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোয়াল শক্ত বা অবশ হয়ে থাকা এবং মাথায় ব্যথা।
২. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া, চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া বা আকস্মিক ভেঙে যাওয়া।
৩. কারণ ছাড়াই কান বা কানের চারপাশে মৃদু থেকে তীব্র ব্যথা।
৪. রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও দিনে ক্লান্তি অনুভব করা এবং দাঁতের সংবেদনশীলতা (শিরশিরানি) বেড়ে যাওয়া।
ব্রুক্সিজম থেকে মুক্তির কার্যকর উপায়
| চিকিৎসার ধরন | কীভাবে সাহায্য করে? |
| নাইট মাউথগার্ড (Mouthguard) | ঘুমের সময় দাঁতের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে দাঁতকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। |
| বোটক্স চিকিৎসা (Botox Injection) | গুরুতর ক্ষেত্রে চোয়ালের অতিরিক্ত সক্রিয় পেশিকে শিথিল করতে ডেন্টিস্টরা বোটক্স ইনজেকশন দেন, যা ৩-৪ মাস পর্যন্ত স্বস্তি দেয়। |
| জীবনযাত্রায় পরিবর্তন | নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন বা ধ্যান, ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ এবং ক্যাফেইন গ্রহণ কমানো। |
| সিবিটি বা থেরাপি | মানসিক দুশ্চিন্তা কমাতে অভিজ্ঞ থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া। |
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় খেয়াল করলে সাধারণ মাউথগার্ড ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই ব্রুক্সিজম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই লক্ষণ প্রকাশ পেলেই বিলম্ব না করে দন্তচিকিৎসক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।