সন্দিগ্ধ নিম্নচাপ রূপ নিচ্ছে মারণ ঝড়ে! পুজোর আনন্দ মাটি করতে বঙ্গে কি তবে আছড়ে পড়ছে বড় বিপদ?

পুজো যখন ঠিক দোরগোড়ায়, ঠিক সেই সময়ই আবহাওয়া নিয়ে বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত মিলল। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত শক্তি বাড়িয়ে ইতিমধ্যেই নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার মডেল জিএফএস (GFS)-এর আশঙ্কা সত্যি করে এই সিস্টেম শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের দেওয়া নামানুসারে এই সম্ভাব্য সাইক্লোনের নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। যদিও ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) এখনও পর্যন্ত একে শক্তিশালী নিম্নচাপ হিসেবেই দেখছে এবং এর গতিপ্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
রাজ্যজুড়ে হলুদ সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক বৃষ্টি
শনিবার সন্ধ্যার উত্তর আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার পরই আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে জেলাগুলিতে:
-
দক্ষিণবঙ্গ: ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম।
-
এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
কোথায় কেমন প্রভাব পড়বে?
মৌসম ভবনের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচূপে পরিণত হয়ে মূলত দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। তবে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব থেকে বাদ পড়ছে না বাংলাও।
-
উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে তাণ্ডব: পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো উপকূলীয় জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকবে। সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
-
মৎস্যজীবীদের জন্য কড়া নির্দেশ: সমুদ্রের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তাল থাকার কারণে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উপকূল এলাকায় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
-
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি: পিছিয়ে নেই উত্তরবঙ্গও। আগামী ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের পাহাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
সোম ও মঙ্গলবার বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমলেও স্বস্তির অবকাশ নেই। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, বুধবার থেকে ফের দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ জুড়েই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করবে এবং বৃহস্পতিবার থেকে তা আরও তীব্র রূপ নিতে পারে। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চিন্তা বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তাদের সকলেরই।