“ভয়ে এতদিন কিছু বলতে পারেনি…” আঁকার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই গ্রেফতার, পকসো আইনে মামলা!

ছবি আঁকা শেখানোর আড়ালে দুই নাবালিকা ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার থানা এলাকায়। অভিযুক্ত শিক্ষক প্রবীর হালদারকে শনিবারই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত।

এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকা জুড়ে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইন বা পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

ভয়ে মুখ খোলেনি নাবালিকারা, প্রকাশ্যে আসতেই লঙ্কাকাণ্ড

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রবীর হালদার নিজের বাড়িতেই ছবি আঁকার স্কুল চালাতেন। প্রতি রবিবার এলাকার একাধিক পড়ুয়ার সঙ্গে ওই দুই নাবালিকাও তাঁর কাছে আঁকা শিখতে যেত। অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রবীর তাদের উপর যৌন নির্যাতন চালাতেন।

প্রথম দিকে তীব্র আতঙ্ক ও ভয়ে মুখ খোলেনি ওই দুই নাবালিকা। পরবর্তীতে তারা সাহস সঞ্চয় করে পরিবারের সদস্যদের কাছে সমস্ত নির্যাতন ও অভিজ্ঞতার কথা জানায়। বিষয়টি জানতে পেরেই পরিবারের লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং শনিবার ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তের নাম অভিযোগের ধরণ আইনি পদক্ষেপ
প্রবীর হালদার (অঙ্কন শিক্ষক ও বিজেপি নেতা) দুই নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন গ্রেফতার, পকসো আইনে মামলা

কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস ডায়মন্ড হারবার পুলিশের

অভিযোগ পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি অভিযানে নামে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। প্রবীর হালদারের বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জমায়েত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে।

ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও বিজয় যাদব জানিয়েছেন, “দুই নাবালিকার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রবীর হালদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃতকে রবিবার ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।”

তোলপাড় রাজনীতি, চিন্তায় অভিভাবকেরা

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দুই নাবালিকার গোপন জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ওই শিক্ষকের কাছে আঁকা শিখতে আসা অন্য কোনও শিশুও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ধৃত ব্যক্তি পদ্মশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে ডায়মন্ড হারবারে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কিন্তু রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে, নিজের বাড়িতে আঁকা শেখানোর শিক্ষকই যদি এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তবে শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়— সেই প্রশ্নে এখন চিন্তায় আকুল এলাকার অভিভাবকেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *