সোনার বাজারে বড় অঘটন! হঠাৎ কেন হু হু করে বাড়ছে দাম? এখনই কেনার সঠিক সময়?

দুর্গোৎসব ও আসন্ন উৎসবের মরসুমের মুখে সোনা ও রুপোর বাজারে ফের বড়সড় ধাক্কা। বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জের এসে পড়ল ভারতের খুচরো বাজারেও। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তাজা আপডেট অনুযায়ী, তিলোত্তমা কলকাতায় এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা মহার্ঘ হয়েছে সোনা ও রুপো। ২৪ ক্যারেট সোনা ইতিমধ্যেই প্রতি ১০ গ্রামে ১.৫৪ লাখ টাকার গণ্ডি পার করে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির (SSBC) প্রকাশিত সকাল ১০:২০ মিনিটের রেট কার্ড অনুযায়ী, কলকাতায় বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দর ও হেরফের ঠিক কী রকম, দেখে নেওয়া যাক:

কলকাতায় আজ সোনা ও রুপোর তাজা দর (GST ব্যতিরেক):

  • ৯৯৫ ফাইন গোল্ড (২৪ ক্যারেট): প্রতি গ্রামে দাম বেড়ে হয়েছে ১৫,৩৬২ টাকা (গতকাল ছিল ১৫,২৬২ টাকা)। অর্থাৎ মাত্র একদিনেই গ্রামপ্রতি ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১০ গ্রামের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৫৩,৬২০ টাকা

  • ২২ ক্যারেট (৯১৬ পিউরিটি): গয়না সোনার বিক্রির দর দাঁড়িয়েছে ১৪,৫৯০ টাকা/গ্রাম (৯০ টাকা বৃদ্ধি)। কেনার দর দাঁড়িয়েছে ১৩,৯৭৯ টাকা/গ্রাম (৯১ টাকা বৃদ্ধি)।

  • ১৮ ক্যারেট সোনা: গ্রামপ্রতি ৭৫ টাকা বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ১১,৯৮০ টাকা।

  • সিলভার বার (৯৯৯ পিউরিটি): রুপোর বাজারও সমান উত্তপ্ত। প্রতি কেজিতে ২,৩২০ টাকা এক লাফে বেড়ে রুপোর দর পৌঁছেছে ২,৪০,৯৬০ টাকায়

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লিখিত সমস্ত পাইকারি ও নির্দেশক হারের ওপর ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) প্রযোজ্য হবে। এছাড়া গয়না কেনার সময় যুক্ত হবে মেকিং চার্জ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ।

দেশের প্রধান শহরগুলিতে সোনার ছবি

শুধু কলকাতাই নয়, দেশের প্রায় সব বড় শহরেই সোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী:

  • নয়া দিল্লি: ২৪ ক্যারেট ১,৫৪,৫৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৪৪,৮৫০ টাকা (প্রতি ১০ গ্রাম)।

  • মুম্বই: ২৪ ক্যারেট ১,৫৪,৪৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৪৪,৩৫০ টাকা।

  • বেঙ্গালুরু: ২৪ ক্যারেট ১,৫৪,৪২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৪৪,৩০০ টাকা।

  • চেন্নাই: ২৪ ক্যারেট ১,৫৪,৪৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৪১,৫৬০ টাকা।

বিশ্ব বাজারে নিউইয়র্কের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে রুপোর দাম বেড়ে আউন্স প্রতি ৬৬.৭৮ ডলারে ঠেকেছে, যা ঘরোয়া ফিউচার মার্কেটকেও (MCX) বেশ কিছুটা চাঙ্গা করেছে।

হঠাৎ কেন বাড়ছে সোনা-রুপোর দাম?

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকাশছোঁয়া দরবৃদ্ধির পিছনে মূল তিনটি কারণ কাজ করছে:

  1. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি, তেল শোধনাগার ও সরবরাহ পাইপলাইনে হামলার আশঙ্কা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  2. নিরাপদ বিনিয়োগে ঝোঁক: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার ছেড়ে সোনাকে ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বেছে নেন।

  3. কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা ক্রয়: বিশ্বের প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি ক্রমাগত রিজার্ভ হিসেবে বিপুল পরিমাণ সোনা জমাচ্ছে, যার ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগানে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

উৎসবের মুখে সোনার এই লাগামহীন দাম বাড়ায় কেনাকাটার পরিকল্পনায় কিছুটা হলেও কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *