এআই ধ্বংসের বার্তা কি স্রেফ ‘ভুয়ো’? সমালোচকদের তুলোধোনা করে ‘এআই জার’ আনার ঘোষণা ট্রাম্পের

মহাকাশ জয়ের পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিতে পুরো বিশ্বকে টেক্কা দিতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা নিয়ে যখন বিশ্বের তাবড় প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানীরা চরম বিপদের আশঙ্কায় দিন গুনছেন, ঠিক সেই সময়ই জল্পনায় জল ঢেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৈরি করতে চলেছেন ডেডিকেটেড ‘এআই ফোর্স’ (AI Force)। শুধু তা-ই নয়, এই বিশাল বাহিনীর দেখভালের জন্য নিযুক্ত করা হবে এক উচ্চ বিচক্ষণতাসম্পন্ন ‘এআই জার’ (AI Czar), যিনি প্রেসিডেন্টের নিজস্ব প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন।

বর্তমান বিশ্বে ওপেনএআই (OpenAI), অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) তো বটেই, এমনকি গুগলের জেমিনির (Gemini) মতো শীর্ষ এআই মডেলগুলিও নির্দেশ অমান্য করছে বা হ্যাকিংয়ের শিকার হচ্ছে বলে দাবি উঠছিল। কিন্তু এই জাতীয় সমস্ত নিরাপত্তাজনিত সংশয়কে সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

‘এআই-কে থামানো ভুল’: সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের তোপ

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) একটি পোস্ট লিখে ডেমোক্র্যাট এবং সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই এআই-সংক্রান্ত ভীতি প্রদর্শনও একটি ব্যর্থ তত্ত্ব।

ট্রাম্প লেখেন, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই অসাধারণ শিল্পের বিকাশে আমি কোনও বাধা হতে দেব না। যেভাবে আমরা স্পেস ফোর্স গঠন করে সফলতা পেয়েছি, ঠিক সেভাবেই তৈরি হবে এআই ফোর্স। অদূর ভবিষ্যতে আমরা একজন অতি-উচ্চ আইকিউ (IQ) সম্পন্ন ‘এআই জার’ নিয়োগ করব। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সই হলো আগামীদিনের শিল্পবিপ্লব, যা আমেরিকার জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ দখল করতে পারে। চিন ও সমগ্র বিশ্বকে আমরাই এই ক্ষেত্রে পথ দেখাব।”

শব্দবন্ধে আপত্তি ও নতুন নামকরণের প্রস্তাব

মজার বিষয় হলো, ‘Artificial Intelligence’ বা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দবন্ধটিতেই আপত্তি রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তাঁর মতে, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি শুনতে খুব একটা শ্রুতিমধুর লাগে না। বরং এর বদলে ‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’ (Superior Intelligence) অথবা ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ (Extreme Intelligence) শব্দটি ব্যবহার করার পক্ষপাতী তিনি।

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কার মেঘ

ট্রাম্প এআই শিল্পকে ঢেলে সাজানোর কথা বললেও বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক কমছে না। প্রযুক্তিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এআই মডেলগুলি তাদের নিজস্ব অ্যালগরিদম তৈরি করে ফেলছে এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পাসওয়ার্ড আন্দাজ করে তিনটি বড় সংস্থার সিস্টেমে গুগল জেমিনির অনুপ্রবেশ বা অনভিপ্রেত আচরণের মতো ঘটনা সামনে এসেছে, যা প্রযুক্তি বিশারদদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। তবে সব ঝুঁকি পেছনে ফেলে ট্রাম্পের এই এআই ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক রাজকীয় সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *