খাঁটি ঘির নামে বিষ! দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় কেলেঙ্কারিতে ইডির জালে চক্রের নাটের গুরু

তিরুপতি লাড্ডু কাণ্ডে ইডির বিরাট সাফল্য: বিশাখাপত্তনমে গ্রেফতার ২৩০ কোটি টাকার ভেজাল ঘি চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’

অন্ধ্রপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী তিরুপতি মন্দিরের প্রসাদী লাড্ডু বিতর্কে এবার বড়সড় মোড়। লাড্ডু তৈরিতে ব্যবহৃত ঘিতে গরুর চর্বি, মাছের তেল ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) জালে ধরা পড়ল এই মহা-প্রতারণা চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়া মূল অভিযুক্তের নাম কৈলাস চাঁদ মঙ্গলা। প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে তাঁকে বিশাখাপত্তনমের বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন।

কীভাবে সাজানো হয়েছিল ২৩০ কোটির প্রতারণার জাল?

ইডির তদন্তে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো বিস্ফোরক তথ্য। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিরুমলা তিরুপতি দেবস্থানম (TTD)-এ সরবরাহ করা ভেজাল ঘির মোট বাজার মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা

তদন্তে জানা গেছে, সুকৃতি ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের (Sukriti Foods Pvt Ltd) সঙ্গে যুক্ত কৈলাস চাঁদ মঙ্গলা একাই প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ভেজাল ঘি তৈরি করেছিলেন। আসল গরুর দুধের ঘির পরিবর্তে তাঁর কারখানায় দিনরাত তৈরি হতো রাসায়নিকের মারাত্মক মিশ্রণ।

কী দিয়ে তৈরি হতো এই ‘বিষাক্ত’ ঘি?

সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) সূত্রে জানা গেছে, বিশুদ্ধ ‘অ্যাগমার্ক স্পেশাল গ্রেড’ (Agmark Special Grade) গরুর ঘির ভুয়ো লেবেল লাগিয়ে মন্দিরে যে ঘি সরবরাহ করা হতো, তাতে খাঁটি দুধের ছিটেফোঁটাও ছিল না।

ভেজাল ঘি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো:

  • রিফাইনড পাম অয়েল ও পাম কার্নেল অয়েল

  • পামোলিন এবং বিষাক্ত কেমিক্যাল এমজি-৯০ (MG-90)

  • মনোগ্লিসারাইডস, Myvacet Soft 400 এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টার

এই সমস্ত ক্ষতিকারক উপাদান ও ভেজিটেবল অয়েল মিশিয়েই হুবহু গরুর ঘির মতো সুবাস ও রঙ তৈরি করা হতো।

কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে যেসব নামী ডেয়ারি সংস্থা

সিবিআই-এর পর ইডির এই জালে উঠে এসেছে একাধিক নামী ডেয়ারি ও সাপ্লাই সংস্থার নাম। তদন্তে প্রকাশ:

  • ভোলেবাবা ডেয়ারি: উত্তরাখণ্ডের এই সংস্থাটি দিনের পর দিন ভেজাল ঘি সরবরাহ করে এসেছে।

  • সাপ্লাই নেটওয়ার্ক: সুকৃতি ফুডস ছাড়া শ্রী বৈষ্ণবী ডেয়ারি স্পেশালিটিজ প্রাইভেট লিমিটেড, মালগঙ্গা মিল্ক অ্যান্ড অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস এবং এআর ডেয়ারি ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের নাম উঠে এসেছে।

কৈলাস চাঁদ মঙ্গলা মূলত কাঁচামাল জোগাড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডেয়ারি সংস্থার মাধ্যমে তা তিরুপতি মন্দিরে পৌঁছানোর পুরো নেটওয়ার্কটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। ইডির এই গ্রেফতারির পর দেশের অন্যতম ধর্মীয় ও স্পর্শকাতর এই কেলেঙ্কারির শিকড় কত দূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে চাঞ্চল্য আরও বাড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *