বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে দিনরাত এক করে কাজ! কবি সুভাষ স্টেশন চালুর ডেডলাইন বাঁধল রেলবোর্ড

নতুন বছরেই যাত্রীদের জন্য বড় খবর: ১ জানুয়ারি কি ফের চালু হচ্ছে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন?

দক্ষিণ কলকাতার যাত্রীসাধারণের জন্য নতুন বছরে বড় চমক দিতে চলেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) মেট্রো স্টেশন পুনরায় চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। রেলবোর্ডের তরফ থেকে ১ জানুয়ারি থেকেই নবরূপে সাজানো এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়ার বার্তা পাওয়ার পর দিনরাত এক করে কাজ চালাচ্ছেন মেট্রো আধিকারিক ও কর্মীরা।

কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল স্টেশনটি?

গত বছরের ২৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে ব্লু লাইনের এই ব্যস্ততম প্রান্তিক স্টেশনটি। মূলত প্ল্যাটফর্মের পিলারে বিপজ্জনক ফাটল ধরেছিল। তা ছাড়া একাধিক পরিকাঠামোগত মারাত্মক সমস্যা প্রকাশ্যে আসায় পুরো স্টেশনটি ভেঙে একেবারে নতুন করে গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে ৮-৯ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এমনকি চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসেও চালুর জল্পনা তৈরি হয়। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিষেবা ব্যাহত থাকায় চরম ক্ষোভ ও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

কাজের অগ্রগতি ও দুশ্চিন্তা: পাইলিং শেষ হলেও বাধা সৃষ্টি করছে বৃষ্টি

মেট্রো কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, স্টেশনের পুরো পুরনো কাঠামো ভেঙে ফেলার পর নতুন স্টেশন তৈরির প্রাথমিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূগর্ভস্থ ‘পাইলিং’-এর কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দ্রুত পরিষেবা ফেরাতে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের দল।

তবে মেট্রোকর্তাদের অন্যতম বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। বিগত দু’মাস ধরে অবিরাম বৃষ্টির কারণে মাঝপথেই ব্যাহত হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে চলা নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি সব কাজ শেষ করে স্টেশন চালু করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে হালকা আশঙ্কার মেঘ।

চড়চড়িয়ে বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি ও রেলে লোকসানের বোঝা

কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধ থাকার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দুই জায়গায়:

  • যাত্রীদের দুর্দশা: নিউ গড়িয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিকটবর্তী শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে পৌঁছাতে বারবার অটো বদল করতে হচ্ছে। ফলে যাতায়াতের সময় বাড়ার পাশাপাশি পকেট খালি হচ্ছে বাড়তি ভাড়ায়।

  • অরেঞ্জ লাইনে লোকসান: নিউ গড়িয়া থেকে যাত্রী না ওঠায় অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা রুট) মেট্রো কার্যত ফাঁকা অবস্থায় যাতায়াত করছে। এতে লোকসানের বহর ক্রমেই ভারী হচ্ছে রেলের খাতায়।

একদিকে কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি, অন্যদিকে কোটি কোটি যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি—এই দুই জোড়া চাপ সামলাতে এই বছরের মধ্যেই পরিকাঠামোগত সংস্কার শেষ করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বাধা পেরিয়ে সত্যিই ১ জানুয়ারি নতুন বছরের উপহার হিসেবে কবি সুভাষের দরজা খোলে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা শহর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *