জাতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থানে বাংলা! ৩২ লক্ষ কৃষকের কপাল খুলল, কীভাবে পাবেন টাকা? জেনে নিন বিস্তারিত

বন্যাদুর্গত কৃষকদের জন্য বিরাট স্বস্তি! মাত্র ১ টাকায় ফসল বিমার বন্দোবস্ত, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আর্থিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PMFBY)-র সফল প্রয়োগ ও দ্রুত নথিভুক্তিকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ৩২ লক্ষ কৃষককে এই বিমা প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা পুরো ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
১ টাকায় মিলবে বিমার সুরক্ষা
কৃষকদের ওপর থেকে অতিরিক্ত খরচের চাপ কমাতে প্রিমিয়ামের সিংহভাগ অর্থ নিজেরাই বহন করছে রাজ্য সরকার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী:
-
১ হেক্টর (২.৫০ একর) পর্যন্ত জমি: কৃষকদের প্রিমিয়াম বাবদ দিতে হবে মাত্র ১ টাকার প্রতীকী (টোকেন) অর্থ।
-
১ থেকে ২ হেক্টর জমি: চাষিদের দিতে হবে একর প্রতি নামমাত্র ১০০ টাকা।
-
অবশিষ্ট অর্থ: প্রিমিয়ামের বাকি সম্পূর্ণ খরচ যোগাবে রাজ্য সরকার।
বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকদের সুবিধার্থে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ শিবির আয়োজন করা হয়েছিল, যার ফলে নথিভুক্তিকরণের কাজে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে।
জেলাভিত্তিক নথিভুক্তির চিত্র
বন্যাপীড়িত জেলাগুলিতে কৃষকদের সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো:
-
পূর্ব মেদিনীপুর: ৭.২৩ লক্ষ কৃষক
-
পশ্চিম মেদিনীপুর: ৪.৭৩ লক্ষ কৃষক
-
হুগলি: ১.৬৮ লক্ষ কৃষক
-
ঝাড়গ্রাম: ৪২ হাজার কৃষক
দ্রুত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ ও সময়সীমা বৃদ্ধি
আগস্ট মাসের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাতে দ্রুত অর্থ পৌঁছে যায়, সে জন্য বিমা সংস্থাগুলিকে ‘মিড-সিজন অ্যাডভার্সিটি’ বা মধ্যবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন অবিলম্বে সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা কৃষকদের নথিভুক্তির শেষ তারিখ বাড়িয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে।
পূর্বে ২০১৯-২০ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে এই বিমা প্রকল্পের কাজ থমকে গেলেও, বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্য প্রশাসনের সক্রিয়তায় আবারও এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্প গতি ফিরে পেয়েছে। ‘পশ্চিমবঙ্গের কৃষক ভাই-বোনেরাই রাজ্য পরিচালনার শক্তি’—এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।