“মমতা বলেছিলেন তুই তো শুভেন্দুর বন্ধু!” হলদিয়ায় গাছতলায় বসে মুখ্যমন্ত্রীর রিপোর্ট কার্ড দিলেন তৃণমূলের আবু তাহের!

“শুভেন্দুকে ১০০-তে ৯৯ দিলাম!” গাছতলায় বসে মুখ্যমন্ত্রীর রিপোর্ট কার্ড দিয়ে তোপ তৃণমূল নেতা আবু তাহেরের

উপনির্বাচনের আগে চারিপাশে আইনি টানাপোড়েন ও প্রতীক হাতছাড়ার ধাক্কা। ঠিক এমন এক সংকটজনক মুহূর্তে তৃণমূলের অন্দরে বেসুরো সুর আরও চড়া হলো। এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নন্দীগ্রামের একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা আবু তাহের।

হলদিয়া মহকুমা আদালত চত্বরে এক গাছতলায় বসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কার্যত রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ তোলপাড় করে দিয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে দলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের জন্য সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

“তুই তো শুভেন্দুর বন্ধু!” স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন তাহের

সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে আবু তাহের স্মৃতির পাতা উল্টে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁকেই সরাসরি বলেছিলেন, “তুই তো শুভেন্দুর বন্ধু!”

কেবল পুরোনো স্মৃতিচারণেই থেমে থাকেননি তাহের, বর্তমান বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজেরও খোলাখুলি প্রশংসা করেছেন তিনি।

শুভেন্দুকে কত নম্বর দিলেন তাহের?

সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তাহের কার্যত চমকে দেওয়ার মতো নম্বর দেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে আমি ১০০-র মধ্যে ৯৯ দেব।”

কিন্তু ১০০-য় ১০০ না দিয়ে ১ নম্বর কেন কাটলেন? মুচকি হেসে নন্দীগ্রামের এই তৃণমূল নেতা জানান তাঁর ‘মিষ্টি’ কারণ— “এই যে আমাদের একা ফেলে উনি অন্য দলে চলে গেলেন, সেই দুঃখেই কেবল ১ নম্বর কেটে রেখেছি!”

“তৃণমূল আজ ছন্নছাড়া, দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে বামেরা”

তৃণমূলের বর্তমান অবস্থার জন্য দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আই-প্যাকের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন আবু তাহের। তাঁর সাফ বক্তব্য, দল আজ সম্পূর্ণ দিশাহীন ও ছন্নছাড়া।

আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েও এক চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। তাহেরের মতে, নন্দীগ্রামের মাটিতে তৃণমূলের এবার এমন বেহাল অবস্থা যে, ভোটে তারা দ্বিতীয় স্থানেও থাকতে পারবে না। নির্বাচনে প্রথম স্থানের লড়াই তো দূরের কথা, তৃণমূলকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে বামপন্থীরা।

উপনির্বাচনের মুখেই প্রবীণ তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য যে ঘাসফুল শিবিরের চরম অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *