শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই নাটকীয় মোড়! জোড়াফুল প্রতীক হারানোর পরেই বড় রাজনৈতিক খেল খেললেন মমতা?

প্রতীক ও প্রার্থী হারিয়ে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত! নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা মমতার

রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় পটপরিবর্তন। জোড়াফুল প্রতীক ও নাম স্থগিত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বড় ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর, এবার সরাসরি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের প্রতি সংহতি। মমতা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপিকে রুখতে এবং জোটের বৃহত্তর স্বার্থেই তাঁদের শিবির নন্দীগ্রাম থেকে আর কোনো প্রার্থী রাখছে না। একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট সুরে বলেন, “আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত। আমি চাই ভারত থেকে বিজেপি বিদায় নিক। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতি আমাদের পূর্ণ সংহতি রয়েছে।” তবে রেজিনগর আসনটি নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, সে বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের নেপথ্যে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক?

রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। শুক্রবার হলদিয়া মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার আগে মমতা-ঘনিষ্ঠ প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান বৈঠক করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। যদিও বৈঠকটিকে প্রথমে সৌজন্যমূলক বলা হয়েছিল, তবে নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে এই সাক্ষাতের পরেই প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা

নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের আদি নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘জোড়া-ফুল’ প্রতীক স্থগিত করার পর মমতা শিবির নতুন পরিচয় হিসেবে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক পেয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা একে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে “কালো দিন” বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁর দলের অ্যাকাউন্টগুলি স্থগিত করা হয়েছে, ১৪ হাজারেরও বেশি কর্মী জেলে রয়েছেন এবং পুলিশ প্রশাসনকে বিজেপির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়ে মমতা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাব না।”

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *