নভেম্বরেই কি ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী? জল্পনার মাঝেই সামনে এল বড় কূটনৈতিক আপডেট!

নভেম্বর-ডিসেম্বরেই কি নয়া দিল্লি সফর? দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোড় লাগাতে তৎপর ঢাকা-দিল্লি

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের বরফ কি তবে গলতে চলেছে? কূটনৈতিক মহলের জোর গুঞ্জন, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরের শেষ দিকে— অর্থাৎ নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুতেই ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে সম্পর্ককে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই সরকারি স্তরে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর।

নিউইয়র্ক বৈঠক ও সফরের সময়সূচি

কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরে অক্টোবর মাস জুড়ে তাঁর একাধিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি থাকায়, দুই দেশের জন্যই নভেম্বর মাসটিকে ভারত সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অনুকূল ও সুবিধাজনক সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেক (BIMSTEC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের জন্য পৃথক আমন্ত্রণ পাঠানো হলেও, সে সময় তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তারেক রহমানের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তার পর দুই দেশের শীর্ষ মহলে নতুন করে যোগাযোগের বার্তা জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, দুই পক্ষের পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সময়সূচি চূড়ান্ত হলেই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবি ও কূটনৈতিক সমীকরণ

এই সম্ভাব্য সফরের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদউর রহমানের একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনাকে এবং তাঁর দলের ঘনিষ্ঠ নেতাদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে ঢাকা। বাংলাদেশের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির জন্য এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অতীতের যাবতীয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সংক্রান্ত জটিলতার মাঝেও যদি তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত দিল্লি সফর করেন, তবে তা ভারত ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় মোড় এবং দিল্লির জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই বিবেচিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *