১৯৩২ সালের ঐতিহ্যবাহী ক্যাফেতে বড় ধাক্কা! তুকারাম মুন্ডের ঝটিকা অভিযানে কী এমন ধরা পড়ল?

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুম্বইবাসীর কাছে ‘ক্যাফে মন্ডেগার’ (Cafe Mondegar) শুধু খাবার খাওয়ার জায়গা নয়, বরং এক নস্ট্যালজিয়া। কোলাবার এই বিখ্যাত রেস্তোরাঁটি ১৯৩২ সাল থেকে শহরের অন্যতম হট ফেভারিট ক্যাফে হিসেবে পরিচিত। ব্যঙ্গাত্মক মেরিও মিরান্ডার ম্যুরাল, জুকবক্স এবং পুরনো মুম্বইয়ের স্বতন্ত্র সংস্কৃতির ছোঁয়া রয়েছে এই ক্যাফেতে। তবে এবার সেই জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী ক্যাফেটিই পড়ল খাদ্য-নিরাপত্তার কড়া নজরদারির মুখে।

মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর কমিশনার তুকারাম মুন্ডের নেতৃত্বাধীন টিমের ঝটিকা অভিযানে ক্যাফে মন্ডেগারের কোলাবা শাখায় একাধিক স্বাস্থ্যবিধি ও কাঠামোগত ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপরই রেস্তোরাঁটির ফুড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর মেট্রো হাউস প্রাঙ্গণে এই ইনস্পেকশন চালানো হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর লাইসেন্স স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

রান্নাঘরের অন্দরের চাঞ্চল্যকর চিত্র এফডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অনিয়মগুলি কেবল অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর বা সাধারণ নথিপত্রের ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পরিদর্শকরা দেখতে পান, খাবারে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী গরম খাবার যেখানে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে এবং ঠান্ডা খাবার ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে সংরক্ষণ করার কথা, সেখানে তা মানা হচ্ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে খাবার নিরাপদ তাপমাত্রার বাইরে রাখলে তাতে ক্ষতিকারক জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পাশাপাশি, খাবার ডিফ্রস্ট করার ভুল পদ্ধতি এবং রান্না করা খাবার দ্রুত ঠান্ডা করার পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবও ধরা পড়ে। ডাইনিং রুম বাইরে থেকে ঝকঝকে ও পরিচ্ছন্ন দেখালেও, ভিতরের রান্নাঘরে খাদ্য-নিরাপত্তার এমন গুরুতর ঝুঁকি গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

নিকাশি ও মেঝে সংক্রান্ত সমস্যা পরিদর্শনে ক্যাফের ভেতরের অবকাঠামোগত সমস্যাও প্রকাশ্যে এসেছে। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের কারণে মেঝে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, খাবার তৈরির জায়গার কাছাকাছি নিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত হওয়ায় খাবারে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলিও নিয়মমাফিক জীবাণুমুক্ত বা পরিষ্কার করা হতো না বলে জানিয়েছে এফডিএ। জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই ধরনের জনপ্রিয় জায়গায় প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *