৮৫ কিমি বেগে আসছে তীব্র ঝড়! কাল থেকে ভাসবে দিল্লি-ইউপি-পশ্চিমবঙ্গ, জারি লাল সতর্কতা

বর্ষার বিদায়বেলায় হঠাৎই তাণ্ডব চালাতে তৈরি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দেশজুড়ে ফের এক ভয়াবহ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আগামী কাল, অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের প্রায় ২৫টি রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার জোড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের নতুন আপডেট অনুযায়ী, এই দুর্যোগের সময় ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার গতিবেগে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই সাথে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে আচমকা ভূমিধসের মারাত্মক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
কোন কোন রাজ্য রয়েছে রেড ও অরেঞ্জ সতর্কতায়? আইএমডি (IMD)-র রিপোর্ট বলছে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, সিকিম, ওড়িশা, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, কেরল, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে একটি উচ্চস্তরের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব আসামের ওপর তৈরি হওয়া বায়ু ঘূর্ণাবর্তের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ে উপকূলীয় ঝড়ের দাপট সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
কী কী সুরক্ষামূলক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে?
-
কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সতর্কতা: সমুদ্র এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। ফসলের চরম ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
পর্যটন ও ড্রাইভিংয়ে ব্রেক: পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ অ্যালার্ট জারি রয়েছে। ঘন জঙ্গল বা পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে।
-
আকাশে বিজলির দাপট: পূর্ব ও উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে বজ্রপাতের চরম আশঙ্কা রয়েছে।
ছুটি থাকছে কি স্কুল-কলেজে? এত বড় দুর্যোগের পূর্বাভাসের পর প্রশ্ন উঠেছে কাল কি বন্ধ থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান? আবহাওয়া দফতরের রিপোর্টের ভিত্তিতে একাধিক রাজ্য প্রশাসন জরুরি বৈঠক শুরু করেছে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর গোয়াতে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে এবং ওড়িশায় ‘নুয়াখাই’ উৎসবের জন্য আগে থেকেই স্কুল ছুটি ঘোষিত রয়েছে।
অন্যান্য বৃষ্টিপ্রবণ রাজ্য যেমন— পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডে এখনও পর্যন্ত একযোগে রাজ্যব্যাপী স্কুল বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজ্যস্তরের বিজ্ঞপ্তি আসেনি। তবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে স্থানীয় জেলা প্রশাসন নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল ছুটির নির্দেশ জারি করতে পারে।