রোজ রান্না হয় ২০০ পাউন্ড চাল! মিজোরামের জিওনা চানার বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারের গল্প হার মানাবে সিনেমাকেও

ভারতের মিজোরামের এক প্রত্যন্ত গ্রাম বাক্তাওয়াং। সেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি চারতলা বাড়ি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে কোনো বোর্ডিং হাউস বা ছোটখাটো হোটেল। কিন্তু আদতে সেটি একটি মাত্র পরিবারের ঠিকানা। যে পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ১৮১ জন!

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি। জিওনা চানা নামের এক ব্যক্তি ছিলেন এই সুবিশাল পরিবারের প্রধান। ২০২১ সালে তাঁর মৃত্যুর পরেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবার হিসেবে তাঁদের জীবনযাত্রা আজও মানুষের কাছে এক চরম বিস্ময়।

এক নজরে বিশ্বের বৃহত্তম পরিবার

  • মোট সদস্য: ১৮১ জন

  • স্ত্রী: ৩৯ জন

  • সন্তান: ৯৪ জন

  • নাতি-নাতনি: ৩৩ জন

  • পুত্রবধূ: ১৪ জন

  • প্রপৌত্র: ১ জন

কীভাবে তৈরি হলো এই বিশাল পরিবার?

জিওনা চানা ছিলেন ‘চানা পাওল’ নামক একটি স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতা। ১৯৪২ সালে তাঁর বাবা খুয়াংতুয়াহা এই গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠা করেন। এই সম্প্রদায়ে বহুবিবাহের প্রথা প্রচলিত ছিল। জিওনা মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গি ছিলেন তাঁর চেয়ে তিন বছরের বড়। পরিবারের ‘হেড ওয়াইফ’ হিসেবে তিনিই গোটা সংসারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন। ২০০৪ সালে শেষবার বিয়ে করেন জিওনা। সব মিলিয়ে তাঁর স্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯।

নতুন প্রজন্মের বাড়ি এবং অবাক করা রোজনামচা

এই ১৮১ জনের সংসার চালানোর জন্য তৈরি হয়েছিল ১০০টি ঘর বিশিষ্ট আস্ত এক চারতলা ম্যানশন। নাম ‘চুয়ান থার রান’ অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের বাড়ি। জিওনার নিজের ঘর ছিল একতলায়। তাঁর ঘরের কাছাকাছি থাকতেন ছোট স্ত্রীরা, আর বয়স্ক স্ত্রীদের জন্য ছিল আলাদা ডরমিটরির ব্যবস্থা। অতিথিদের জন্য একটি গেস্টহাউসও বানানো হয়েছিল।

এত বড় সংসার চালানো মুখের কথা নয়। সবটাই চলত ঘড়ির কাঁটা ধরে, কড়া নিয়মমাফিক।

  • রান্না ও গৃহস্থালি: পালা করে স্ত্রীদের রান্নার দায়িত্ব নিতে হতো। মেয়েরা সামলাতেন ঘর পরিষ্কার ও কাপড় কাচার কাজ।

  • বিপুল খাবার: প্রতিদিন এই পরিবারে রান্নার জন্য প্রয়োজন হতো প্রায় ২০০ পাউন্ড চাল এবং ১৩০ পাউন্ডের বেশি আলু।

  • স্বনির্ভর জীবন: বাজারের ওপর খুব একটা ভরসা করত না এই পরিবার। নিজেদের জমির ফসল আর নিজেদের পালা গবাদি পশু থেকেই মিটে যেত রোজকার দুধ ও মাংসের চাহিদা। এমনকি পরিবারের ছোটদের পড়াশোনার জন্য নিজস্ব একটি স্কুলও ছিল।

গিনেস রেকর্ড প্রত্যাখ্যান

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও জিওনা চানা কখনও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খেতাব নেননি। ২০০৭ সালে গিনেসের প্রতিনিধিরা তাঁর কাছে গেলেও প্রচারের আড়ালে থাকতেই বেশি পছন্দ করেছিলেন তিনি। তবে ২০১১ সালে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অ্যাকাডেমি তাঁদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

৭৫ বছর বয়সে আইজলের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জিওনা চানা। কিন্তু তাঁর তৈরি করে যাওয়া সেই বিশাল পরিবার এবং চারতলা বাড়িটি আজও দেশ বিদেশের মানুষের কাছে অন্যতম প্রধান কৌতূহলের কেন্দ্র হয়ে রয়ে গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *