গর্ভগৃহ ছেড়ে কোথায় গেলেন মা তারা? কৌশিকী অমাবস্যার পরেই তারাপীঠে বড় সিদ্ধান্ত!

ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় আর মহা সমারোহে পালিত কৌশিকী অমাবস্যার উৎসব শেষ হতেই এবার তারাপীঠ মন্দিরে শুরু হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কারের কাজ। আর এই সংস্কারের কাজের জন্যই সাময়িকভাবে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো মা তারার বিগ্রহ। সোমবার রাতেই সমস্ত নিয়ম ও আচার মেনে দেবীর বিগ্রহ পাশের একটি শিবমন্দিরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আগামী প্রায় এক মাস ধরে ওই শিবমন্দিরেই অধিষ্ঠান করবেন মা তারা।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত?
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কৌশিকী অমাবস্যার উৎসব মিটতেই মন্দির চত্বর ফাঁকা হওয়ায় এই সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে। নবগঠিত মন্দির কমিটির প্রধান লক্ষ্য ছিল, নাটমন্দির থেকে সাধারণ ভক্তরা যাতে কোনো সমস্যা ছাড়াই মাকে স্পষ্টভাবে দর্শন করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। তারাপীঠ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা জগন্নাথ রায়ের বর্তমান বংশধর এই সংস্কারকাজে সম্পূর্ণ আর্থিক সহযোগিতা করছেন এবং মন্দির কমিটি এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা এনওসি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ মেনেই মন্দিরের ভেতর ও বাইরের অংশের সংস্কার করা হবে।
পুজো এবং দর্শনে কি কোনো বাধা আসছে?
ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তবে কি এই একমাস তারাপীঠে পুজো বা দর্শন বন্ধ থাকবে? এর উত্তরে মন্দির কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভক্তদের পুজো বা দর্শনে কোনো বাধা আসছে না। পাশের শিবমন্দির থেকেই সমস্ত নিয়ম মেনে দেবীর নিত্যপুজো, আরতি ও ভোগ নিবেদন করা হবে। এমনকি সেখান থেকেই ভক্তরা মায়ের দর্শন করতে পারবেন।
বিশেষ করে প্রবীণ ও বয়স্ক ভক্তদের কথা মাথায় রেখেই এই সংস্কারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় বয়স্ক ভক্তরা গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে না পেরে নাটমন্দির থেকে পুজো দেন, কিন্তু বর্তমান বিন্যাসে তাঁদের দেখতে বেশ সমস্যা হয়। এই অসুবিধা দূর করতেই মন্দিরের সামনের দরজা প্রায় এক ফুট উঁচু করা এবং মা তারার মূল বেদি প্রায় আট ইঞ্চি উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে এই সংস্কারের কাজ চলবে। মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহালয়ার ঠিক আগে অথবা খোদ মহালয়ার দিনই মা তারার বিগ্রহকে সসম্মানে পুনরায় মূল গর্ভগৃহ ফিরিয়ে আনা হবে।