একমাত্র ইংরেজি শিক্ষককে বদলি! আদালতের কড়া নির্দেশে আপাতত থমকে গেল শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা

রাজ্যের সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘উদ্বৃত্ত’ (Surplus) হিসেবে চিহ্নিত করে অন্যত্র বদলির জন্য জারি করা সংশোধিত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা এসওপি-র (SOP) কার্যকারিতার উপর আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহার একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি যুক্তি
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বনমালীপুর সন্তোষ ভট্টাচার্য মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা সোমা সরদার এই এসওপিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে ওই স্কুলে কর্মরত সোমাদেবীর দাবি ছিল, ইংরেজি একটি আবশ্যিক বিষয় এবং তিনি ওই স্কুলের একমাত্র ইংরেজির পাস গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক। তা সত্ত্বেও ছাত্রসংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক কাজের চাপ কিংবা স্কুলের প্রকৃত শিক্ষক-চাহিদা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাঁকে ‘উদ্বৃত্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অন্য স্কুল বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
মামলাকারীর আইনজীবী উজ্জ্বল রায় জানান, হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত জুলাই মাসের এসওপি-র ভিত্তিতে স্কুল বাছাই, বদলি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ থমকে গেল। এই নির্দেশের ফলে একই এসওপি অনুসারে উদ্বৃত্ত ঘোষিত ও বদলির মুখে পড়া রাজ্যের বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাও সাময়িক স্বস্তি পেলেন।