দিল্লির দুই হাজারেরও বেশি পিজি চলছে নরককুণ্ডে! ১ শতাংশেরও কমের ফায়ার এনওসি দেখে আঁতকে উঠবেন

দিল্লির সত্য নিকেতনে পাঁচতলা একটি বয়েজ হস্টেল ভেঙে সাত জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর পিজি (PG) আবাসনগুলি নিয়ে চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজধানীর মোট ২,৪৫৩টি পেইং গেস্ট আবাসনে এক ব্যাপক সমীক্ষা চালিয়েছে দিল্লি পুরনিগম (MCD)। আর সেই সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেছে, অধিকাংশ পিজি-র পক্ষেই প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো নথিপত্রই নেই।

এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সমীক্ষা চালানো আবাসগুলির মধ্যে মাত্র ৩১টি পিজি বিল্ডিংয়ের, অর্থাৎ মাত্র ১.২ শতাংশের কাছে রয়েছে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের (DFS) ফায়ার এনওসি (NOC)। অন্যদিকে, মাত্র ৭২৬টি পিজি বিল্ডিংয়ের বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে, যা সমীক্ষা করা মোট আবাসনের ৩০ শতাংশেরও কম। আরও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, মাত্র ৮টি বিল্ডিংয়ের হাতে রয়েছে স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি সার্টিফিকেট। ফলে রাজধানীর এই পিজি আবাসনগুলির অগ্নিনিরাপত্তা এবং কাঠামোগত স্থায়িত্ব নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

দিল্লির মোট ১২টি এমসিডি জোনজুড়ে এই বিশেষ সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সত্য নিকেতনে হস্টেল বিপর্যয়ের ঘটনার পর দিল্লি হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের নির্দেশ আসতেই এই সমীক্ষা শুরু করে পুরনিগম। গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের তরফ থেকে ভর্ৎসনা শোনার পরই রাজধানীর পিজি ও ভাড়া আবাসনগুলির অনুমোদন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা শুরু হয়।

এমসিডি-র ১২টি জোনের মধ্যে পিজি আবাসনের সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কেশবপুরম জোন। সেখানে মোট ৪১০টি পিজি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে মাত্র ৫৪টির বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদিত। এই জোনে মাত্র দু’টি বিল্ডিংয়ের ফায়ার এনওসি এবং দু’টির কাছে স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি সার্টিফিকেট রয়েছে। এমনকি কোনো বিল্ডিংয়েরই কোনো অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নেই।

অন্যদিকে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাস, আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi) এবং জেএনইউ (JNU)-এর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সাউথ জোনে পিজি আবাসনের সংখ্যা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সবথেকে ভীতিজনক তথ্য হলো, সাউথ জোনে নথিভুক্ত ৩৯০টি পিজি সম্পত্তির একটিরও দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি সার্টিফিকেট, অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান বা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট—কিছুই নেই। এমনকী, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী পিজি হিসেবে ব্যবহারের উপযুক্ত অনুমতিও কোনো সম্পত্তির ক্ষেত্রে নথিভুক্ত হয়নি। সত্য নিকেতনের ভয়াবহ হস্টেল বিপর্যয়ের পর এই পরিসংখ্যান দিল্লির হাজার হাজার পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *