রেজিনগরে বামেদের অন্দরে চরম ফাটল! মহম্মদ সেলিমের মেজাজ হারানোর পরই বড় সিদ্ধান্ত শরিক দলের!

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য গত শনিবার বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। একদিকে যখন আইএসএফ কিংবা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঘরের ভেতরেই বড়সড় ধাক্কা খেল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। রেজিনগর আসনটিকে কেন্দ্র করে বামফন্টের অন্যতম প্রধান শরিক দল আরএসপি-র সঙ্গে সিপিএমের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ও ফাটলের ছবি সামনে চলে এসেছে।
সিপিএম বনাম আরএসপি প্রার্থী দ্বন্দ্ব
শনিবারের ঘোষণায় রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে সিপিআইএমের প্রতীকে লড়ার জন্য সইদ আসাদ আলির নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই আসনটিতে সিপিএমের একতরফা প্রার্থী ঘোষণাকে একেবারেই ভালোভাবেই নেয়নি আরএসপি। দলটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রে আরএসপি লড়াই করে এসেছে এবং জুন মাসেই তারা এই আসনে লড়ার ইচ্ছের কথা রাজ্য বামফ্রন্টকে জানিয়ে রেখেছিল। কিন্তু শরিকদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই সিপিএম প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত সমাধান সূত্র না মেলায়, আরএসপি-র তরফ থেকেও এই আসনে বিকাশ চন্দ্র মিশ্রকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মেজাজ হারালেন মহম্মদ সেলিম
এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অস্বস্তির মুখে পড়েন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রেজিনগর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দৃশ্যতই বেশ বিরক্ত দেখায় তাঁকে।
বিরক্তি প্রকাশ করে সেলিম বলেন, ‘‘এখানে কোনো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেই। এটা যত তাড়াতাড়ি সবাই বোঝে ততই ভালো।’’ এরপর সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন করতে চাইলে আরও চটে যান এই বাম নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বামফ্রন্টের অন্দরে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়ে গেছে এবং এই নিয়ে তিনি আর কোনো চর্চা করতে চান না। তবে উপনির্বাচনের দোরগোড়ায় শরিকি লড়াইয়ের এই ছবি যে বাম শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।