নাবালিকা ধর্ষণ মামলার তদন্ত শুরুর ঠিক আগেই মারাত্মক কাণ্ড! থানার ব্যারাকে ঝুলন্ত উদ্ধার চৌকস পুলিশ অফিসারের দেহ!

রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্যকর এক নাবালিকা গণধর্ষণ মামলার তদন্তকারী আধিকারিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থানার ব্যারাকেই কর্মরত সাব-ইনস্পেক্টর বিশ্বনাথ সেনের (৫৭) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই পুলিশ মহলে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় দেগঙ্গা থানা থেকে বদলি হয়ে হাবড়া থানায় যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বনাথ সেন। তিনি থানা চত্বরের ব্যারাকেই থাকতেন। রবিবার রাতেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে একটি নাবালিকা ধর্ষণ মামলার তদন্ত পরিচালনা করেন। সোমবার সকালে ধৃত দুই অভিযুক্তকে বারাসত আদালতে পেশ করার কথা ছিল তাঁরই।
কিন্তু সোমবার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কাজে যোগ না দেওয়ায় সন্দেহ হয়। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এক সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, ব্যারাকের দোতলায় তাঁর ঘরের দরজা সামান্য ভেজানো রয়েছে। ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায় এবং দেখা যায়, ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছার ফাঁসে তাঁর নিথর দেহ ঝুলছে। খবর পেয়ে হাবড়া থানার ইনস্পেক্টর ইনচার্জ অভিজিৎ বিশ্বাস দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাঁকে উদ্ধার করে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলা ও তদন্ত
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি হাবড়ায় মামারবাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হয়ে যায় এক চতুর্দশী কিশোরী। পরে স্থানীয় একটি জঙ্গল থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। জেরায় জানা যায়, বান্ধবীর সঙ্গে এক যুবকের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মদের আসরের পর দুই যুবক কর্তৃক সে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ তৎক্ষণাৎ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। সেই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সাব-ইনস্পেক্টর বিশ্বনাথ সেনই।
আদালতে পেশ করার ঠিক আগের মুহূর্তে এমন কী ঘটল, যার জেরে ওই অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারকে এমন চরম পথ বেছে নিতে হলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।