শিক্ষাঙ্গনে কেন বহিরাগতদের উপচে পড়া ভিড়? হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় কোন বিরাট আদেশের অপেক্ষা!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা এবং বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ফের উত্তাল। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন এক মামলাকারী আইনজীবী। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে।

সোমবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চের সমক্ষে আর্জিটি পেশ করা হয়। আদালত জানায়, আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি হতে পারে।

যাদবপুর কাণ্ড ও ঘটনার ঘনঘটা

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেল বডি মিটিং (GBM) আহ্বানকে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) এবং ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP)-র সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ধ্বস্তাধ্বস্তি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার জল গড়ায় বহু দূর:

  • লোগো ভাঙচুর: বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে থাকা ঐতিহ্যবাহী লোগোর একাংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়।

  • পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি: ক্যাম্পাসজুড়ে রাতে ও দিনে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

  • বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ: দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝেই বহু অশিক্ষক ও বহিরাগত ব্যক্তি ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে বলে অভিযোগ ওঠে।

পূর্ববর্তী মামলা ও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বহিরাগতদের প্রবেশ আটকাতে এটিই প্রথম মামলা নয়। এর আগে হাজরা ল’ কলেজে সরস্বতী পুজো কেন্দ্রিক অশান্তির সময়েও হাইকোর্ট কড়া অবস্থান নিয়েছিল। তৎকালীন নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, রেজিস্টার মেনে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ সুনিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর গাইডলাইন বানাতে হবে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা ও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনার পরেও হাইকোর্টের নির্দেশে সিসিটিভি মোতায়েন এবং বাইরের সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত পদক্ষেপ সত্ত্বেও বারবার রাজনীতির আখড়া হয়ে উঠছে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাঙ্গন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ পূর্বে এই মামলা দায়ের করার অনুমতি দিলেও শুনানি বকেয়া ছিল। আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই নিয়ে কী কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা নতুন গাইডলাইন জারি করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের শিক্ষামহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *