নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী দিল ঋতব্রত-তৃণমূল, তুঙ্গে উত্তেজনা, জানুন প্রাথী কে কে?

রাজ্য রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন লড়াই! বিধানসভা উপনির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই জমজমাট যুদ্ধের সলতে পাকানো শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আসল চমক অপেক্ষা করছিল সোমবার বিকেলে। নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর— এই দুই হাই-প্রোফাইল বিধানসভা আসনে নিজেদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিল ঋতব্রত-তৃণমূল। ফলে উপনির্বাচনের ময়দানে এবার জোড়া ফুল বনাম জোড়া ফুলের সরাসরি সংঘর্ষের রক্ত গরম করা চিত্রনাট্য তৈরি হল।
ঘোষণা অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম আসনে ঋতব্রত শিবিরের ভরসা মহম্মদ এতেশামুল হক। অন্যদিকে, রেজিনগরে প্রার্থী করা হয়েছে সফিউদ্দিন শেখকে। ৬ অক্টোবর হতে চলা এই মহারণে নাম ঘোষণা হতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে।
এর আগে ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, গত রবিবারই এই দুই আসনে নিজেদের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছিল মমতা-তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের তরফ থেকে নন্দীগ্রামে বাজি ধরা হয়েছে সঞ্চিতা প্রধান দে-র ওপর। রেজিনগরে তৃণমূল টিকিট দিয়েছে সাবেক বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরিকে। তবে দুই ক্যাম্পের লড়াইয়ের মাঝেই ইতিমধ্যে ময়দানে নেমে পড়েছে বাম ও কংগ্রেস। যদিও সবার নজর এখন বিজেপি প্রার্থীর দিকে, যারা এখনও কার্ড ওপেন করেনি।
কেন খালি হল জোড়া আসন?
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে ভোটগ্রহণের নেপথ্যে রয়েছে দলত্যাগী ও দুই আসনে জয়ের সমীকরণ। গত নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর থেকে জয়ী হয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী নন্দীগ্রামের আসনটি তাঁকে ছেড়ে দিতে হওয়ায় কেন্দ্রটি ফাঁকা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে, রেজিনগর ও নওদা দুই জায়গা থেকেই জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন হুমায়ুন কবির। পরে তিনি রেজিনগর পদটি থেকে ইস্তফা দেন। ফলে উপনির্বাচন আবশ্যিক হয়ে দাঁড়ায়।
একনজরে কার সঙ্গে কার টক্কর:
-
নন্দীগ্রাম: মমতা-তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। তাঁর মুখোমুখি ঋতব্রত শিবিরের মহম্মদ এতেশামুল হক, কংগ্রেসের মিলন প্রধান এবং বাম জোটের শান্তিগোপাল গিরি।
-
রেজিনগর: এখানে মমতা-তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সফিউদ্দিন শেখ (ঋতব্রত-তৃণমূল)। পাশাপাশি লড়াইয়ে রয়েছেন কংগ্রেসের আব্দুল্লাহিল কাফি ও সিপিএমের সইদ আসাদ আলি।
ভোটের নির্ঘণ্ট:
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দুই কেন্দ্রের জন্য মনোনয়ন পত্র পেশ করা যাবে। সমস্ত যাচাই-বাছাই পর্ব শেষে লড়াইয়ের রূপরেখা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হবে। ভোটগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে ৬ অক্টোবর এবং বহুল প্রতীক্ষিত ফলাফল জানা যাবে ৯ অক্টোবর।
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিক্ষুব্ধ শিবির— একই প্রতীকের লড়াই নাকি এক অদ্ভুত ভোটের ময়দান দেখবে বাংলা, তার দিকেই তাকিয়ে পুরো রাজ্য!