এআই যুদ্ধে চিনের সঙ্গে হাত মেলাবে নয়াদিল্লি? শি-র ‘ওপেন সোর্স’ জালে এবার কোন পথে ভারত!

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-র মতো টেক-দৈত্যদের একচেটিয়া দাদাগিরি বন্ধ করতে এবার বড় চাল চালল জিনপিং প্রশাসন। এআই-এর ময়দানে এবার ‘ওপেন সোর্স’ (Open Source) আন্তর্জাতিক জোট গড়ার প্রকাশ্য ডাক দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে বেজিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই ওপেন-সোর্স বা মুক্ত-ব্যবস্থার শক্তিশালী প্রস্তাব পেশ করেন তিনি। বেজিংয়ের লক্ষ্য স্পষ্ট— মার্কিন টেক-কোম্পানিগুলির ওপর বিশ্বের প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমানো এবং একটি উন্মুক্ত বিশ্বজনীন এআই পরিকাঠামো তৈরি করা।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির তিন ধারা
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি চালনায় মূলত তিনটি পৃথক ধারা বা ‘স্কুল অব থট’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে:
-
মার্কিন মডেল (ক্লোজড অ্যান্ড প্রোপাইটারি): ওপেনএআই (OpenAI), গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো টেক-দৈত্যরা নিজেদের এআই কোড ও অ্যালগরিদম গোপন বা প্যাটেন্ট করে রাখে।
-
চিনা মডেল (ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক): বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিবিদ ও উন্নয়নকারীদের বিনামূল্যে বা সহজে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে মার্কিন আধিপত্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার স্ট্র্যাটেজি।
-
ইউরোপীয় মডেল (কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রবিধান): নাগরিক অধিকার ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এআইয়ের ওপর নানা আইনি কড়াকড়ি জারি করেছে।
ভারতের ‘তৃতীয় পথ’ ও নীরবতা
চিনের এই বড়সড় প্রস্তাবে অন্যান্য সদস্য দেশ প্রতিক্রিয়া দেখালেও, ভারতের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ব্রিকস মঞ্চে চিনের প্রস্তাবিত এআই জোট নিয়ে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্ত সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে চিনের নেতৃত্বাধীন কোনো প্রযুক্তি জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ভারত অত্যন্ত সতর্ক। তবে সিলিকন ভ্যালির আধিপত্য ভেঙে নিজস্ব সার্বভৌম এআই (Sovereign AI) পরিকাঠামো তৈরিতে কাজ করছে ভারতও। ফলে বিশ্ব প্রযুক্তি রাজনীতিতে ভারত কোনো একতরফা জোটে না গিয়ে নিজস্ব ‘তৃতীয় পথ’ বেছে নেয় কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।