আইটি কনসালটেন্সির নামে ২.৭৮ কোটির দুর্নীতি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ের বিরুদ্ধে ইডির এফআইআরে তোলপাড় ‘ইন্ডিয়া’ জোট

কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে প্রচণ্ড তোলপাড়। পিনারাই বিজয়ন, তাঁর কন্যা বীণা টি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়ের করতে রাজ্য পুলিশকে চিঠি দিয়েছে ইডি। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই ভূমিকাকে তীব্র আক্রমণ করে এটিকে বিজেপি চালিত ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন ইউডিএফ সমর্থিত নির্দল বিধায়ক টি কে গোবিন্দন।

তালিপারম্বার এই নির্দল বিধায়ক সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেন, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটে ফাটল ধরানোই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে সরাসরি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কেন্দ্র।

ইডির এফআইআর আর্জি ও বিধায়কের বিস্ফোরক অভিযোগ

সম্প্রতি ইডির পক্ষ থেকে কেরল রাজ্য পুলিশের প্রধান রাভাদা এ চন্দ্রশেখরের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে বীণা এবং বীণার স্বামী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পি এ মহম্মদ রিয়াসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে (Prevention of Corruption Act) সরাসরি এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানানো হয়।

এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বিধায়ক টি কে গোবিন্দন বলেন, ইডি যেখানে নিজেই প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে সরাসরি মামলা করতে সক্ষম, সেখানে কেন তারা রাজ্য পুলিশের ওপর এফআইআরের দায়িত্ব ঠেলে দিচ্ছে? তাঁর মতে, ইডির এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির অসৎ মানসিকতা, যার মাধ্যমে তারা বিরোধী শিবিরের ভেতরে পারস্পরিক অনাস্থা তৈরি করতে চায়।

কী এই সিএমআরএল (CMRL) ঘুষ কেলেঙ্কারি?

ইডির দাবি অনুযায়ী, কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (CMRL) নামক সংস্থাটি পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণার ফার্ম ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-কে ‘আইটি কনসালটেন্সি সার্ভিস’-এর ভুয়ো বাহানায় প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকা প্রদান করে। এই আর্থিক অনিয়মের তদন্তেই গত জুন মাসে ইডি বীণার বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এবং তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে।

গোবিন্দন স্পষ্ট করেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ে যদি বেআইনিভাবে কোনো অর্থ উপার্জন করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম না মেনে কেবল বিরোধীদের নিশানা করার উদ্দেশ্যে কাজ করলে ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নিজস্ব নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।

একই সঙ্গে বিরোধী ইউডিএফ শিবিরের কিছু নেতার দ্বিচারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোবিন্দনের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও বেছে বেছে কারো বেলায় ইডির পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো আর অন্যদের বেলায় সমালোচনা করা— এই ধরনের দ্বিচারিতা মেনে নেওয়া যায় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *