পুজোর আগেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন দলছুট এনসিপিআই সাংসদেরা? জগদীশ বসুনিয়ার দাবিতে শোরগোল!

পুজোর আগেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন এনসিপিআই সাংসদেরা? জগদীশ বসুনিয়ার বিস্ফোরক দাবিতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি
হঠাৎ করেই এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের দলবদল সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই চরম শোরগোল শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া দাবি করেছেন, দুর্গাপুজোর আগেই নাকি এনসিপিআই-এর বিদ্রোহী সাংসদেরা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। যদিও তাঁর এই দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন মিতালি বাগ এবং শতাব্দী রায়ের মতো দলেরই অন্যান্য সদস্যরা। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে কেউ চাইলেই তাঁকে দলে নিয়ে নেওয়া হবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
দলত্যাগ ও এনডিএ-র সঙ্গে সখ্য
চলতি বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ দানা বাঁধে। যার জেরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একদল বিদ্রোহী সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-এ যোগ দেন। শুধু তাই নয়, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়ে তাঁরা কেন্দ্রর এনডিএ জোটকে সমর্থন জানান এবং পরবর্তীতে এনডিএ-র বৈঠকেও তাঁদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এমন প্রেক্ষাপটেই জগদীশ বসুনিয়ার এই মন্তব্য নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
কী বলছে শাসক ও বিরোধী শিবির?
জগদীশ বসুনিয়ার এই দাবি প্রসঙ্গে সাবধানী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, “ওদের ব্যাপার ওরা কী করবে। ওরা তো এনডিএ শরিক ছিল। বিজেপি তো বলেছিল কাউকে নেবে না। এখন তাহলে কী হল? দেখা যাক।”
তবে শোভনদেবের মতো সাবধানী পথে না হেঁটে চরম আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর তীব্র কটাক্ষ, “এই ২০ জন ধোপার বাড়ি যাওয়া গদ্দার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হলে এরা পাশেই থাকত। এদের নীতিহীনতা কাজ করছে। এরা বিজেপিতে সরাসরি ঢুকতে চায়। বিজেপি এদের পাঠিয়ে দিয়েছে এনসিপিআই-তে, সরাসরি নেবে না বলে। বসুনিয়া যখন বলছেন তখন নিশ্চয়ই কোথাও শুনেছেন।”
উড়িয়ে দিল রাজ্য বিজেপি
তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদদের বিজেপিতে যোগদানের দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যে কেউ যখন তখন বিজেপিতে যোগদান করতে চাইবেন আর তাকে বিজেপি নিয়ে নেবে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের ওপর যা হয়েছিল, তা ভুললে চলবে না। আর ওঁরা যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন, সেটা হয়তো মঙ্গল গ্রহের বিজেপি।”