ভাত বা রুটি খাওয়ার আগে ঠিক কী খেলেই হু হু করে কমবে সুগার? ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিরাট সুখবর!

ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। খাবারে একটু এদিক-ওদিক হলেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হু হু করে বেড়ে যায়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘গ্লুকোজ স্পাইক’ (Glucose Spike)। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রতিদিন ঠিক কী খাচ্ছেন তার পাশাপাশি আপনি খাবারগুলি ঠিক কোন ক্রমে বা অর্ডারে খাচ্ছেন, তা রক্তে সুগার বাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে? আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের মতে, একটু কৌশল বদলেই খাবারের থালায় খাবার খাওয়ার নিয়ম পরিবর্তন করে ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
খাবার খাওয়ার সঠিক ক্রম বা সিকোয়েন্স কেন জরুরি?
খাবারের থালায় থাকা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার এবং ফ্যাট—এই উপাদানগুলি হজম হতে শরীরের আলাদা সময় নেয়। যদি আপনি প্রথমে কার্বোহাইড্রেট বা ভাত-রুটির মতো খাবার খেয়ে নেন, তবে তা দ্রুত ভেঙে রক্তে সুগার বা গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে যদি সঠিক সিকোয়েন্স মেনে খাওয়া যায়, তবে পরিপাকতন্ত্র ধীরগতিতে কাজ করে এবং রক্তে শর্করা হঠাৎ করে ওপরের দিকে লাফিয়ে ওঠে না।
রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেভাবে খাবেন:
প্রথমে ফাইবার বা সালাদ খাওয়া: খাবার খাওয়ার শুরুতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন কাঁচা শাকসবজি, সালাদ বা ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। ফাইবার পাকস্থলীতে একটি জালের মতো আস্তরণ তৈরি করে, যা পরবর্তী সময়ে খাওয়া কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা রক্তে মিশতে বাধা দেয়।
দ্বিতীয় ধাপে প্রোটিন ও ফাইবার: সালাদের পর প্লেটের প্রোটিন অংশ যেমন ডাল, মাছ, মাংস বা পনির খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। প্রোটিন ও ফ্যাট খাবার হজমের গতি ধীর করে দেয়।
সবশেষে কার্বোহাইড্রেট: খাবার খাওয়ার একেবারে শেষে ভাত, রুটি বা মিষ্টি জাতীয় কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। যেহেতু এর আগে পেট ফাইবার ও প্রোটিনে কিছুটা ভরে থাকে, তাই কার্বোহাইড্রেট খুব ধীরে রক্তে শোষিত হয়।
খাবারের মেনু না বদলিয়ে কেবল খাওয়ার এই ছোট্ট নিয়ম বা ক্রম পরিবর্তন করলেই রক্তে সুগারের মাত্রা আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তবে যেকোনো ডায়েট পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।