“বছরের সবচেয়ে বড় আইপিও!” ২২ হাজার কোটির মহানিবেশে কাঁপছে শেয়ার বাজার, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকেই বাম্পার সুযোগ

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য অপেক্ষা করতে চলেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ— ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-এর বহুল প্রতীক্ষিত আইপিও (IPO) বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে খুলতে চলেছে ২২ হাজার কোটি টাকার এই মেগা আইপিও। এত বড় অঙ্কের এই ইস্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই দালাল স্ট্রিটে চরম উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একাধিক প্রশ্ন— যেমন এতে কারা আবেদন করতে পারবেন, পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ম কী হবে কিংবা এই শেয়ার কোথায় লিস্টেড হবে? একনজরে জেনে নিন এই মহানিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি।
পুরনো শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কী নিয়ম রয়েছে?
এই আইপিও নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল রয়েছে যাঁদের কাছে আগে থেকেই এনএসই-র শেয়ার রয়েছে, তাঁদের নিয়ে। আপনি যদি পুরোনো শেয়ারহোল্ডার হন, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতোই এই আইপিওতে বিড বা আবেদন করতে পারবেন। নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী রিটেল, নন-ইনস্টিটিউশনাল বা কোয়ালিফাইড ইনস্টিটিউশনাল (QIB) ক্যাটাগরিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, পুরোনো বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কোটা বা সংরক্ষণ রাখা হয়নি এবং তাঁদের সমস্ত নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরি লিমিট কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
কোম্পানির কাছে যাবে না একটি টাকাও!
এই ইস্যুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ দিকটি হলো এর আর্থিক কাঠামো। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই পুরো আইপিওটি হলো মূলত একটি ‘অফার ফর সেল’ (OFS)। অর্থাৎ, এখানে মোট ১২,৬৪,৩৬,৬৫২টি ইকুইটি শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে (প্রতিটির অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালু ১ টাকা)। এর অর্থ হলো, কোম্পানি নতুন করে কোনো শেয়ার বাজারে ছাড়ছে না। বরং, অতীতে যাঁরা কোম্পানির প্রাথমিক বিনিয়োগকারী ছিলেন, সেই সমস্ত বড় বড় নামী প্রতিষ্ঠান— যেমন স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI), নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্স এবং কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড— তাঁদের নিজস্ব শেয়ার বিক্রি করে এই অফারের মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ বের হয়ে আসছেন। তাই এই আইপিও থেকে উঠে আসা পুরো অর্থটিই সরাসরি যাবে এই বিক্রেতা শেয়ারহোল্ডারদের পকেটে, কোম্পানির তহবিলে নয়।
কেন শুধু বিএসই (BSE)-তে হবে লিস্টিং?
খবরটি শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও সত্যি যে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) শেয়ার কিন্তু স্বয়ং এনএসই-র নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত (Listed) হবে না। এই শেয়ারের ট্রেডিং বা লিস্টিং হবে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্টক এক্সচেঞ্জ— বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-এ! এর নেপথ্যে রয়েছে অত্যন্ত কড়া একটি আইনি নিয়ম। সিকিউরিটিজ কন্ট্রাক্টস রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো স্বীকৃত স্টক এক্সচেঞ্জ নিজের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে নিজেই নিজের শেয়ারের লেনদেন বা কেনাবেচা পরিচালনা করতে পারে না। আর সেই আইনি জটিলতা এড়াতেই একে শুধুমাত্র বিএসই-তে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মচারী ও খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা:
সাধারণ রিটেল বা খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ইস্যুর ৩৫ শতাংশ অংশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যেখানে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি নিজেদের কর্মীদের কথা ভোলেনি কোম্পানি। এনএসই-র যোগ্য কর্মচারীদের জন্য আলাদাভাবে ৭০ কোটি টাকার একটি বিশেষ কোটা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যেখান থেকে কর্মীরা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত শেয়ারের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সাবস্ক্রিপশন শুরু হওয়ার আগেই নিজের পোর্টফোলিও সাজিয়ে নেওয়ার এটাই সেরা সুযোগ।