“ওএমআর শিটের দিন শেষ!” NEET-UG পরীক্ষার্থী বড় ধাক্কা, এবার কি তবে পুরোপুরি অনলাইনে হবে পরীক্ষা?

দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দেওয়া সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG)-র ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA)। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথাগত পেন-অ্যান্ড-পেপার বা ওএমআর (OMR) পদ্ধতির পরিবর্তে এবার কম্পিউটারভিত্তিক বা সিবিটি (CBT) মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ‘সিবিটিই ভবিষ্যৎ’, তাই খুব শীঘ্রই ডিজিটাল মাধ্যমেই এই সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হবে।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক সিং জানান, বর্তমানে জাতীয় স্তরের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলির মধ্যে একমাত্র নিট-ইউজিই ঐতিহ্যগতভাবে অফলাইনে খাতায়-কলমে নেওয়া হয়। অথচ জেইই মেইন (JEE Main), সিইউইটি (CUET), ইউজিসি-নেট (UGC-NET) এবং নিফ্ট (NIFT)-এর মতো বড় পরীক্ষাগুলি ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে অনলাইনে সফলভাবে আয়োজিত হচ্ছে। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্সের সুনির্দিষ্ট পরামর্শেই এই নতুন রূপরেখা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণ:
একসঙ্গে ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীকে অনলাইন পরীক্ষার উপযুক্ত করে তুলতে একাধিক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
পরীক্ষাকেন্দ্র বৃদ্ধি: বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর চাপ ও ভিড় মসৃণভাবে সামাল দিতে দেশজুড়ে কম্পিউটারের সুব্যবস্থা রয়েছে এমন পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা ও এআই-এর ব্যবহার: সার্ভারের ত্রুটি, অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপ বা অননুমোদিত সার্ভারের ব্যবহার রুখতে কঠোর সাইবার সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যেকোনো ধরনের জালিয়াতি বা অসদুপায় রোধ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডেটা অ্যানালিটিকস টুলের সাহায্য নেওয়া হবে।
কেন এই পরিবর্তন?
অফলাইন ওএমআর পদ্ধতিতে বিগত দিনে হওয়া বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আইনি জটিলতা ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। এই সমস্ত বিতর্ক এড়াতেই ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন বা সিবিটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরিবহণের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে মানবজনিত ভুলত্রুটির সম্ভাবনা অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে। যদিও ঠিক কবে থেকে এই ডিজিটাল পরীক্ষা পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি এনটিএ।