“বাড়ির চাকর-বাকরকেও প্রার্থী করে দেওয়া যায়!” উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই চরম কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ এখন তুঙ্গে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। এর মাঝেই কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। আর এই প্রার্থী নির্বাচন নিয়েই রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের খড়্গহস্ত ও বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিনের মতো প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু নিয়ে ঝাঁঝালো ভাষায় আক্রমণ শানান দিলীপ ঘোষ। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোন বিষয়ে কী মন্তব্য করেছেন তিনি: তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচন ও কটাক্ষ: তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, যাঁদের হারার ভয় থাকে, তাঁরাই আগে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা করেন। বিজেপি একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল, যেখানে একটি উপনির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করতেও পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক ডাকতে হয়। কিন্তু তৃণমূলের সেই বাছাবাছি বা নিয়মের বালাই নেই উল্লেখ করে তিনি তীব্র তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, “বাড়ির চাকর-বাকরকেও ক্যান্ডিডেট করে দিলেও চলে!” আসল-নকল তৃণমূল ও দলবদল নিয়ে মন্তব্য: তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ‘আসল-নকল’ তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান, যে রাজনৈতিক দলকে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই বর্জন করেছেন, তার আবার আসল আর নকল কী? অতীতে প্রতীক হাতে থাকা সত্ত্বেও মানুষ তাদের পরাজিত করেছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। জুনপুটে ডিআরডিও (DRDO) প্রকল্প: রাজ্যের জুনপুটে ডিআরডিও-র নতুন প্রজেক্ট প্রসঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, প্রযুক্তির বিস্তার ঘটছে এবং ভারত ধীরে ধীরে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নতুন রেঞ্জের প্রয়োজন রয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়ায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। কলকাতার গণেশ পুজো নিয়ে পর্যবেক্ষণ: সাম্প্রতিককালে কলকাতার অলিগলিতে গণেশ পুজোর ব্যাপক প্রসার ও বৃদ্ধি নিয়ে নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর মতে, গণেশের আগমন মানেই শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা। মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের মতো রাজ্যগুলি গণেশ আরাধনার হাত ধরে উন্নয়নের কোন শিখরে পৌঁছেছে, তা থেকেও শিক্ষা নেওয়ার বার্তা দেন তিনি। সবমিলিয়ে, উপনির্বাচনের প্রাক্কালে দিলীপ ঘোষের এই চেনা ছকভাঙা ও ধারালো মন্তব্য যে বিরোধী শিবিরকে আরও চাপে ফেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এই বিষয়ে বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে দেখুন।