ইনস্টাগ্রামের বন্ধুত্ব থেকে নরকদর্শন! হায়দরাবাদে ১৬ বছরের নাবালিকাকে আটজন মিলে পৈশাচিক গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুত্ব কীভাবে একটি কিশোরীর জীবনকে নরকে পরিণত করতে পারে, তার এক ভয়াবহ ও নির্মম চিত্র সামনে এল। তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের আলওয়াল এলাকায় ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে পৈশাচিক কায়দায় গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল মোট আটজন যুবকের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইনস্টাগ্রামের বন্ধুত্ব ও প্রথম নির্যাতনের ফাঁদ
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছরের ওই নির্যাতিতা কিশোরী মাদা বোল্লারামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে সে ইন্টারমিডিয়েট শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। বছরখানেক আগে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে জেরি বরুণ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অভিযোগ, কিছুদিন আগে জেরি ওই কিশোরীকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ মেশানো চকলেট খাইয়ে নিজের গাড়ির ভিতরেই প্রথম যৌন নির্যাতন চালায়।
এর কিছুদিনের মধ্যেই জেরি ওই নাবালিকাকে রোমালা বরুণ নামের আরেক যুবকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, রোমালা তাকে জোর করে মদ, সিগারেট ও গাঁজার নেশায় আসক্ত করে তোলে এবং কোম্পালি এলাকার একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন চালায়।
বাড়ি থেকে পালানো ও একের পর এক নরকীয় অত্যাচার
পরিবারের কাছ থেকে জীবনযাপন নিয়ে বকাঝকা খাওয়ায় গত ৮ সেপ্টেম্বর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ওই কিশোরী। পরদিন, অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর সে বোল্লারাম রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে পৌঁছয়। সেখানে নীরজ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার দেখা হয়। নীরজ তার বন্ধু ভিকিকে সেখানে ডেকে পাঠায় এবং দুজনে মিলে মেয়েটিকে ফের নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে আলাদাভাবে যৌন নির্যাতন চালায়।
এরপর নিখিল নামের আরেক বন্ধুর সহায়তায় কিশোরীকে দুলাপল্লিতে নিয়ে যায় ভিকি। সেখানে আরও দু’জন ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং একটি ‘ওযো’ (OYO) রুমে আটকে রেখে নাবালিকার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়।
ট্রেন ও ওটোয় চলন্ত বাসের মতো নির্যাতন
ঘটনার পরের দিন, অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর কোনোক্রমে ভিকির বন্দিদশা থেকে পালিয়ে বোল্লারাম স্টেশনে ফিরে আসার চেষ্টা করে মেয়েটি। কিন্তু ভিকি এবং তার অপর এক বন্ধু গণেশ তাকে পথেই ধরে ফেলে। জোর করে ফের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে মেদচাল রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মালকাজগিরিগামী একটি চলন্ত ট্রেনে তুলে আবারও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে অটোয় করে ধুলপেটের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় সুযোগ বুঝে মেয়েটি জোরে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।
পুলিশের জালে আট অভিযুক্ত
বাড়ি ফিরে আসার পর পরিবারকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে ওই নির্যাতিতা। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ জেরি বরুণ, রোমালা বরুণ, নীরজ, ভিকি, নিখিল ও গণেশ-সহ মোট আটজন অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। এমনকি যে ‘ওযো’ (OYO) হোটেলে এই পৈশাচিক কাণ্ড ঘটেছিল, তার মালিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ধৃতদের সকলকে বিচারকের সামনে হাজির করা হলে আদালত তাদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত বা রিমান্ডের নির্দেশ দেয়। এরপরই তাদের চঞ্চলগুড়া সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকার ওপর চলা এই লাগাতার ও নির্মম নির্যাতনে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।