ফ্রিজে স্ত্রীর কাটা মাথা লুকানোর চাঞ্চল্যকর কাণ্ড! চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই চলন্ত পুলিশ গাড়ি থেকে ঝাঁপ অভিযুক্তের

স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর কাটা মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ৩০ বছরের রামানুজ গোস্বামীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার ভোরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় চলন্ত পুলিশ ভ্যান থেকে ঝাঁপ দেন ওই অভিযুক্ত। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুয়াহাটির নরকাসুর পাহাড় এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ধৃত রামানুজ গোস্বামীকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (GMCH) রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিক্যালের পর হাতিগাঁও থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই পথেই আচমকাই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন রামানুজ। চলন্ত গাড়ি থেকে তিনি সটান নিচের একটি খাদে ঝাঁপ দেন। প্রবল বেগে নিচে পড়ে যাওয়ার ফলে তাঁর শরীরে মারাত্মক জখম ও চোট লাগে।
সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই পুলিশের হেফাজত থেকে এহেন পলায়নের চেষ্টা ও তাঁর আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। চলন্ত গাড়ি থেকে কীভাবে তিনি পুলিশের সতর্ক নজর এড়িয়ে ঝাঁপ দিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
স্ত্রীর কাটা মাথা ফ্রিজে লুকানোর রোমহর্ষক ঘটনা
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির একটি ফ্ল্যাটে ২৫ বছরের স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে নির্মমভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছিল রামানুজের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের অনুমান, স্ত্রীর অন্য কারও সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহের বশবর্তী হয়েই এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছিল সে।
প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে ফ্ল্যাটের ফ্রিজের ভেতর থেকে একটি কালো পলিথিন ব্যাগ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ছিল রিয়ার কাটা মাথা এবং বিচ্ছিন্ন আঙুল। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো দা-ও উদ্ধার করে পুলিশ, যা খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জোরালো সন্দেহ রয়েছে। ঘটনার তিনদিন পর, অর্থাৎ গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে নিজে এসে আত্মসমর্পণ করে রামানুজ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) খুন ও প্রমাণ লোপাটের গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে ছিল।
অনুশোচনা তো দূর, ছিল খুনের চরম হুমকি!
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণের জন্য রামানুজকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ও তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা অপরাধবোধ কাজ করেনি। উলটো সে স্পষ্ট জানিয়েছিল, ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। জেরার মুখে রামানুজ দাবি করেছিল, খুনের সময় সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং ফ্ল্যাট থেকে বেশ কিছু খালি মদের বোতলও উদ্ধার হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মৃত রিয়া যে ব্যক্তিকে ‘সুগার ড্যাডি’ বলে উল্লেখ করতেন, সুযোগ পেলে তাঁকেও খুন করার হুমকি দিয়েছিল সে।
এদিকে নিহত রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে রামানুজের বিরুদ্ধে একাধিক মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর মাদকাসক্তির ইতিহাস, বিয়ের সময় শারীরিক অসুস্থতার তথ্য গোপন করা এবং ২০১৯ সালে একটি আর্থিক প্রতারণার মামলা সংক্রান্ত অপরাধমূলক অতীত সামনে এনেছে পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার পরিবারের তোলা প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্তের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো মামলাটি এক নতুন মোড় নিয়েছে।