বাবার একটা ছবিও চোখে দেখতে পারে না অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে! পিছনের কারণটা জানলে চোখ ভিজে যাবে

বাবাকে তিনি প্রতি মুহূর্তে মনে করেন, এ কথা তিনি বহুবার অকপটে স্বীকার করেছেন। কিন্তু অদ্ভুত এক কারণে প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের (Abhishek Chatterjee) মেয়ে সাইনা ওরফে ডল ইচ্ছে করেই কখনও নিজের বাবার ছবি বা ভিডিও দেখেন না! সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে এসে এই চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক সত্য কথাই সকলের সামনে প্রকাশ করলেন সাইনা। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং সেই পর্বের বিশেষ অতিথি সুপারস্টার দেবের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই এই আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

বাবাকে হারানোর কঠিন লড়াই ও ডলের ঘুরে দাঁড়ানো
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায় ২০২২ সালে মাত্র ৫৭ বছর বয়সে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। বাংলা চলচ্চিত্র ও ছোটপর্দার পরিচিত এই অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ও তাঁর পরিবার ভেঙে পড়েছিল। বিশেষ করে খুব কম বয়সে বাবাকে হারিয়ে মানসিকভাবে মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছিল তাঁর আদরের ছোট মেয়ে সাইনা। তবে সেই দুঃসময় কাটিয়ে আজ মা সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়ের স্নেহে ও সাহসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সে। বর্তমানে সাইনা নিজেও পা রেখেছে অভিনব দুনিয়ায়। জি বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘কনে দেখা আলো’-তে তিনি অভিনয় করছেন, যেখানে তাঁর বিপরীতে নায়ক হিসেবে নজর কাড়ছেন সোমরাজ মাইতি। পর্দায় তাঁদের জুটি দর্শকদের ভালোবাসা পেলেও, বাস্তবের ব্যক্তিগত জীবনে বাবাকে হারানোর শূন্যতা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।

কেন বাবার ছবি দেখেন না সাইনা?
দাদাগিরির মঞ্চে এসেই ডল সকলকে অবাক করে দিয়ে জানায় যে, সে কখনোই বাবার কোনো ছবি দেখতে পারে না। এর পেছনের কারণ হিসেবে সে জানায়, সে যখনই বাবার কোনো ছবি বা দৃশ্য দেখতে যায়, তখনই সেখানে দেখে বাবাকে ভিলেনদের হাতে মার খেতে! মূলত অভিষেক চট্টোপাধ্যায় তাঁর কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে খলনায়ক বা নেতিবাচক চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তাঁকে মার খাওয়ার দৃশ্যে দেখা গেছে। কচি মনে সেই দৃশ্যগুলি গভীর আঘাত হানায় সে চিরতরে বাবার অভিনয় বা ছবি দেখা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, আশির ও নব্বইয়ের দশকে টলিউডে রোমান্টিক হিরো হিসেবেই নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অভিষেক। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর জুটি একসময় দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের নানা রাজনীতির কারণে তিনি বড়পর্দা থেকে কিছুদিনের জন্য দূরত্ব তৈরি করলেও, পরবর্তী সময়ে ছোটপর্দায় কামব্যাক করে ‘খড়কুটো’-সহ বিভিন্ন মেগা সিরিয়ালে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন। কিন্তু ২০২২ সালের মার্চ মাসে একটি শুটিং চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়ার পর প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ ঘটে। দাদাগিরির মঞ্চে বাবাকে নিয়ে মেয়ের এই আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী স্মৃতিচারণা উপস্থিত সকলের চোখেই জল এনে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *