পাক মন্ত্রীর হাত থেকে নেব না ট্রফি! এশিয়া কাপ জিতেও মহসিন নকভিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঠ ছাড়ল ভারত

এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। কিন্তু শিরোপা জয়ের পরও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) সভাপতি তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে সটান অস্বীকার করে ভারতীয় দল। দেশের সম্মান ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস না করে ট্রফি ছাড়াই মাঠ ছাড়েন হরমনপ্রীত কৌররা, যা নিয়ে বর্তমানে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

৩০ মিনিট অপেক্ষা ও নকভির অনড় জেদ
টুর্নামেন্টের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে নারাজ ছিল ভারতীয় মহিলা দল। দলের স্পষ্ট বার্তা ছিল, কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের হাত থেকে তাঁরা এই সম্মান গ্রহণ করবেন না।

এই অচলাবস্থার জেরে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে মাঠেই একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকে পরিস্থিতি। অনেকেই আশা করেছিলেন, অপমানজনক এই পরিস্থিতিতে মহসিন নকভি নিজেই মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু নিজের জেদে অনড় থেকে নকভি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মঞ্চ ছেড়ে নড়েননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান মঞ্চ না ছাড়ায়, ভারতীয় দল ও টিম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ট্রফি না নিয়েই মাঠ ছাড়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। কোটি কোটি ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীর মন জয় করে নিয়েছে ভারতীয় দলের এই কড়া অবস্থান।

পুরুষ দলের পথেই মহিলা দলের ঐতিহাসিক বয়কট
উল্লেখ্য, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালেও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় পুরুষ দল একই কারণে মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেছিল। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবার মহিলা দলও প্রমাণ করে দিল যে, দেশের সম্মানের সামনে ট্রফি বা পদক গৌণ। পিসিবি প্রধান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নকভিকে এ নিয়ে টানা দু’বার ভারতীয় দলের এমন বয়কটের মুখে পড়তে হলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় দলের এই দেশপ্রেম ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের একপেশে জয়
মাঠের বাইরের এই বিতর্কের পাশাপাশি ফাইনালে ভারতীয় দলের অনবদ্য ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। এদিন ফাইনালে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা এবং শেফালী ভার্মা শুরু থেকেই ঝড়ো গতিতে রান তুলে দলকে এক মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করান। স্মৃতি ৩৯ বলে চোখধাঁধানো ৫৯ রান এবং শেফালী ৩৯ বলে দুর্দান্ত ৬৮ রানের ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তাঁদের বিদায়ের পর মিডল অর্ডার কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়লেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের ইনিংস গিয়ে থামে ১৮৩ রানে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু (৩৬ রান) ছাড়া আর কোনো ব্যাটারই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। ভারতীয় দলের দুই স্পিনার চর্নী (৪/২০) এবং দীপ্তি শর্মার (৩/১৯) ঘূর্ণি জাদুতে পুরোপুরি ধসে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১১১ রান তুলেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফাইনালে দুর্দান্ত জয় এলেও মহসিন নকভিকে ঘিরে তৈরি হওয়া ট্রফি বয়কটের এই নজিরবিহীন ঘটনা এখন ক্রীড়ামহলের সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *