এক ধাক্কায় ২০% বাড়ল ডিএ! পুজোর আগেই সরকারি কর্মীদের জন্য বাম্পার উপহার, পকেটে টাকার জোয়ার

গত তিন মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভোল পাল্টেছে রাজ্যের। বাংলায় নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে চলছে খুশির হাওয়া। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঐতিহাসিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সরকারি কর্মীদের জন্য ২০% ডিএ বৃদ্ধি
আগের ১৮ শতাংশ ডিএ-র সঙ্গে নতুন করে ২০ শতাংশ যুক্ত হয়ে আগামী পয়লা অক্টোবর থেকেই মোট ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা হাতে পেতে চলেছেন বাংলার সরকারি কর্মীরা। দুর্গাপূজার ঠিক প্রাক্কালে সরকারের এই ঘোষণা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা
পুজোর মাসের এই ধামাকার রেশ কেবল কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গত জুন মাস থেকেই রাজ্যে সফলভাবে চালু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা ঢুকতেও শুরু করেছে। গত মাসেই রাজ্যের এক কোটিরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা লাভ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সমস্ত যোগ্য মহিলা এতদিন এই সুবিধার বাইরে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে ৩০০০ টাকা করে প্রদান করা হবে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়া হবে। ফলস্বরূপ, আসন্ন পুজোর আনন্দমুখর দিনগুলোতে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট উপচে পড়বে সরকারি অনুদানে।
বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা স্কিম’
নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে আগামী পয়লা অক্টোবর থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে অত্যন্ত জনমুখী ‘ভরসা স্কিম’ বা ‘যুবশক্তি ভরসা কর্মসূচি’। চলতি বছরের রাজ্য বাজেটেই এই প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই প্রকল্পের আওতায় যুবশক্তি ভরসা কার্ডের মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক ও যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট বেকার যুবকরা প্রতি মাসে পাবেন ৩০০০ টাকা এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ বেকাররা প্রতি মাসে পাবেন ২০০০ টাকা করে। ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক বা মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম এবং যারা অন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পান না, শুধুমাত্র সেই পরিবারের সন্তানরাই এই সহায়তার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সামাজিক ভাতায় বড় বৃদ্ধি
শুধু যুবসমাজ বা কর্মীরাই নন, সমাজের প্রবীণ ও প্রান্তিক মানুষদের কথাও ভোলেনি সরকার। বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণও একলাফে অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে যেখানে ১০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো, সেখানে তা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে সরাসরি ১৫০০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। আসন্ন পুজোর মাসেই উপভোক্তারা এই বর্ধিত হারে পেমেন্ট হাতে পাবেন। সবমিলিয়ে, পুজোর মরশুমে বিভিন্ন প্রকল্পের এই আর্থিক জোয়ার রাজ্যবাসীর জীবনযাত্রায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চলেছে।