বুলেট ট্রেনকেও দেবে টেক্কা? ভারতকে ঘণ্টায় বুলেট ট্রেনের বিকল্প অফার দিল রাশিয়া!

ভারতের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিশাল প্রস্তুতির মাঝেই এক বড়সড় চমক দিল বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া। ভারতীয় রেলকে তাদের সর্বাধুনিক ‘ইভোলগা’ (Ivolga) হাই-স্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়ার বিখ্যাত রেল কোম্পানি ‘ট্রান্সমাশহোল্ডিং’ (Transmashholding)।

সংস্থাটির দাবি, এই ইভোলগা ট্রেনের দ্রুতগতির সংস্করণটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম! হিসাব অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ভারতে চালু হলে কলকাতা থেকে দিল্লি পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৪ ঘণ্টার কাছাকাছি।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে বড় জোর

সম্প্রতি আয়োজিত ‘INNOPROM India’ ইভেন্টে রাশিয়ার এই হাই-স্পিড ট্রেনের প্রস্তাবটি সামনে আনা হয়। রাশিয়ান সংস্থাটি তৈরি ট্রেন ভারতের কাছে বিক্রি না করে, ভারতে বসেই স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ট্রেন উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাবের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত দেশীয় বা স্থানীয় উপাদান (Local content) ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ জোরদার হওয়ার পাশাপাশি ভারতে বিপুল কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের নতুন দরজা খুলে যেতে পারে।

ইভোলগা ট্রেনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যাবলি:

  • সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৩৬০ কিলোমিটার।

  • যাত্রী ধারণক্ষমতা: ৮টি বগির এই সুসজ্জিত ট্রেনে একসঙ্গে প্রায় ৬৪২ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন।

  • স্থায়িত্ব: ট্রেনগুলির কার্যকাল বা জীবনকাল ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ বছর।

  • স্থানীয় উপাদান: অন্তত ৮০% যন্ত্রাংশ ভারতের মাটিতেই তৈরি সম্ভব।

বন্দে ভারত স্লিপার থেকে বুলেট ট্রেন: ভারত-রাশিয়া সমীকরণ

ভারতীয় রেল খাতে ট্রান্সমাশহোল্ডিং সংস্থাটি একেবারেই নতুন নয়। বর্তমানে ভারতীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে ১২০টি ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন উৎপাদনের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তারা। ইভোলগার এই নতুন প্রস্তাব দুই দেশের রেল সম্পর্ককে এক ধাক্কায় অতি-উচ্চগতির (High-Speed) পর্যায়ে নিয়ে গেল।

বর্তমানে ভারত-জাপান যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডোর, যেখানে জাপানের বিখ্যাত ‘শিনকানসেন’ (Shinkansen) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার ‘ইভোলগা’ এখনই এই বুলেট ট্রেন প্রকল্পের সরাসরি বিকল্প নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘণ্টায় ৩৬০ কিমি গতি পেতে হলে কেবল ট্রেনের প্রযুক্তিতেই হবে না; এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ হাই-স্পিড ট্র্যাক, অত্যাধুনিক সিগন্যালিং ও শক্তিশালী সুরক্ষাবলয়। তাই ভারত সরকার ভবিষ্যতে নতুন কোনো হাই-স্পিড করিডোর নির্মাণের ক্ষেত্রে খরচ, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের হিসাব কষে রাশিয়ার এই প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখতে পারে। আপাতত এটিকে ভারতের রেল পরিকাঠামোয় এক সম্ভাব্য ও প্রতিশ্রুতিশীল বিকল্প হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *