‘পুজো বলতেই কষ্ট! নবান্নে আসুন, একসাথে অঞ্জলি দিই’, কমিউনিস্টদের চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর!

অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও তাঁর শিক্ষিকা স্ত্রীকে রাস্তায় ঘিরে ধরেছিল দুই সশস্ত্র দুষ্কৃতী। ভুয়ো পিস্তল দেখিয়ে গলার সোনার হার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলতেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। কিন্তু ডাকাতদের সেই ছক পুরোপুরি ভেস্তে দিল এক সাধারণ যুবকের অসীম সাহস। ফিল্মি কায়দায় দুষ্কৃতীকে বাইক থেকে ফেলে দিয়ে আটকে দিলেন স্থানীয়রা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের আজমীরের সিভিল লাইন্স থানা এলাকায়। শনিবার রাতে স্কুটারে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক মহেন্দ্র জৈন এবং তাঁর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সুচিত্রা জৈন। অভিযোগ, নির্জন রাস্তায় তাঁদের পিছু নেয় বাইকে থাকা দুই যুবক। আচমকাই দুষ্কৃতীরা চলন্ত স্কুটার থামিয়ে সুচিত্রা দেবীর গলার হার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুষ্কৃতীদের বাইক ও ওই দম্পতির স্কুটার— দুটিই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

পিস্তল উঁচিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এক দুষ্কৃতী পকেট থেকে পিস্তলের মতো দেখতে একটি অস্ত্র বের করে ওই বৃদ্ধ দম্পতির দিকে তাক করে ভয় দেখাতে শুরু করে। এই ভীতিকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সে সুচিত্রা দেবীর গলা থেকে হারটি ছিনিয়ে নেয়। তবে প্রাণভয়ে চুপ না থেকে সুচিত্রা দেবী স্বর উঁচিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন।

যেভাবে ভেস্তে গেল ছিনতাইয়ের প্ল্যান সুচিত্রা দেবীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান এক স্থানীয় যুবক। নিজের জীবনের পরোয়া না করে তিনি সোজা এগোতে থাকেন অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীর দিকে। মুহূর্তের মধ্যে এক ধাক্কায় বাইকের পাশে থাকা এক দুষ্কৃতীকে মাটিতে ফেলে দেন তিনি। বেগতিক বুঝে প্রথম দুষ্কৃতীটি চম্পট দিলেও, ততক্ষণে আরও বেশ কিছু পথচারী সেখানে জড়ো হয়ে যান। জনতার তাড়া খেয়ে দ্বিতীয় দুষ্কৃতী পালানোর সুযোগ পায়নি। স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

পুলিশি তদন্ত শুরু পুরো ঘটনাটির ভিডিও ক্যামেরায় বন্দি হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিভিল লাইন্স থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, যদিও এই ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পালিয়ে যাওয়া অপর দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করার তৎপরতা শুরু হয়েছে।

এক সাধারণ যুবকের সততা এবং সাহসিকতার কারণেই আজমীরে এক বড়সড় অঘটন এড়ানো সম্ভব হলো বলে প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *