‘বেআইনি মাদ্রাসা একচুলও বরদাস্ত করা হবে না!’ দিলীপ ঘোষের এই হুঙ্কারে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল!

রাজ্যে বেআইনিভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা চালানো যাবে না বলে সোমবার সাফ জানিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, একমাত্র সরকারি অনুমতি থাকলেই তবেই কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব। বিগত দুই দশক ধরে মাদ্রাসা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগ চলে আসছে উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারই এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে।

বেআইনি মাদ্রাসা নিয়ে কড়া অবস্থান দিলীপ ঘোষের

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বেআইনি কোনো কিছুই বরদাস্ত করা হবে না… যেখানে সরকারি অনুমতি নেই, সেখানে কোনো কাজকর্ম চলতে পারে না… যদি তারা চালাতে চায়, তবে সরকারের থেকে অনুমতি নিতে হবে। যাদের বৈধ অনুমতি আছে, শুধুমাত্র তারাই প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবে।”

পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “মাদ্রাসাগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে জনমানসে নানা সন্দেহ রয়েছে। এটি কোনো নতুন বিষয় নয়, গত ২০ বছর ধরে এই সমস্যা চলে আসছে। বহু নেতাই বারবার এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু কেউ এর কোনো সমাধান দিতে পারেননি। তবে আমরা এই সমস্যার সঠিক সমাধান করব।” উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নির্দেশ বা নোটিশ পাঠানোর পরেই মন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প নিয়ে শুভেন্দুর দাবি

এদিকে অন্য একটি প্রসঙ্গে গত শুক্রবার রাজ্যের পরিকাঠামো ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বড় প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, গত চার মাসের মধ্যেই রাজ্যে চোখে পড়ার মতো প্রগতির ছোঁয়া লেগেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫,০০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প, ৬০০ কোটি টাকার বিশাল আমুল (Amul) প্ল্যান্ট এবং একটি অত্যাধুনিক রোবোটিক ফায়ার-ফাইটিং সিস্টেম।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গত চার মাসে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেখেছি; যেমন গনগনিতে একটি প্রকল্পের জন্য ৭০০ কোটি টাকার বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি ১৫,০০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্পও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে একটি উন্নত রোবোটিক ফায়ার-ফাইটিং সিস্টেম চালুর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যা সাধারণ দমকলের গাড়ি বা বড় ফায়ার ট্রাক সহজে পৌঁছাতে পারে না—এমন সংকীর্ণ অঞ্চলেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *